
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসনটিতে শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন এই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর গতকাল শনিবার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লেখা আবেদনটি তাঁর পক্ষে আজ রোববার জমা দেন এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দফায় ১২টি কেন্দ্রের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন। আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তাঁর নেতা-কর্মী, এজেন্ট, পরিবারের সদস্য কর্তৃক ভোট রিগিং (কারচুপি), প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা, বাতিলকৃত ভোট গণনাভুক্ত করাসহ নানাবিধ নির্বাচনী অনিয়মের আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এবং আসনের রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন এবং ভোট কারচুপি ও অনিয়মের মাধ্যমে আমাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।’ আমার নির্বাচন নিয়ে অনেক চক্রান্ত হচ্ছে: মির্জা আব্বাসআমার নির্বাচন নিয়ে অনেক চক্রান্ত হচ্ছে: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আবেদনে আরও বলা হয়, ‘আমি এই দরখাস্তের মাধ্যমে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয় নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছি এবং আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা আব্বাস। তিনি পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
‘ওরা যেটা করেছে, এটা খুব ভয়ংকর’: মির্জা আব্বাস‘ওরা যেটা করেছে, এটা খুব ভয়ংকর’: মির্জা আব্বাস
এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেফায়েত উল্লা হাতপাখা মার্কায় ১ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মেঘনা আলম ৬০৮ ভোট পেয়েছেন।
অবশেষে ঢাকা-৮ আসনের ফল প্রকাশ, জয়ী মির্জা আব্বাসঅবশেষে ঢাকা-৮ আসনের ফল প্রকাশ, জয়ী মির্জা আব্বাস
ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪টি। বাতিল হয় ২ হাজার ৮১৭টি। বৈধ ভোট হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭টি। এই আসনে পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ৬ হাজার ১২টি। বাতিল হয় ৩২০টি।

