
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি আসনেই জয়লাভ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডা. খালিদুজ্জামান।
আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “নির্বাচনের ফলাফল আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলেও আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মানের সঙ্গে আপনাদের সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অল্প সময়ের মধ্যে যে ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা আপনারা একজন ‘চিকিৎসক’ খালিদকে এবং আমার সংগঠনকে দিয়েছেন—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
কাল হতে সারাদেশে যে নীরব দৃশ্যপটের সাক্ষী আপনারা হয়েছেন, মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঢাকা-১৭ নিশ্চয়ই তার বাইরে নয়। অনেক জায়গায় আমরা সামান্য ভোটে পিছিয়ে থেকেছি। কিন্তু এই অল্প ব্যবধানই প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়, মানুষ বিকল্প চায়, মানুষ নীতিভিত্তিক রাজনীতি চায়। এই জাগরণই আমাদের শক্তি।
আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আমাদের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শ থেকে সরে যাননি। আপনাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না, ইনশাআল্লাহ। আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তাদের বলব, আমরা এক চির অমসৃণ পথের যাত্রী। কল্যাণের রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথচলা। আজ ফলাফল যাই হোক, মানুষের আস্থা অর্জনের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা থামবে না। যারা কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিল দিয়ে আমাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন, সেটাই হবে আগামী দিনের জন্য আমাদের সবচাইতে বড় পুঁজি। আমাদের আরও গোছালো হতে হবে, আরও দক্ষ হতে হবে, আরও বেশি বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মুমিনদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মহান আল্লাহ কখনো পরিশ্রম ও নিয়তকে বিফল করেন না।
আমি বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাই। বিজয় মানে কথা রাখা আর প্রত্যাশা পূরণের এক মহাপরীক্ষার সূচনা। আমি আশা করি, তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষ কোনো সহযোগিতা করতে পারলে তা হবে আমার সৌভাগ্য। আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখব।
প্রিয় এলাকাবাসী,
আপনাদের ভালোবাসা আমার শক্তি। যোগ-বিয়োগের খেলায় আমি হেরে গেলেও আপনারাই বিজয়ী হয়েছেন। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব—ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখুন।”

