
অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে যে নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে আগামী দিনের বাংলাদেশ আবারও অস্থিরতার দিকে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনে আমরা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থায় নেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু যদি ব্যর্থ হই, তাহলে দেশ আবারও বিপদের মধ্যে পড়বে।
ভোটের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, এ ধরনের রাজনীতি দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধই আমাদের অস্তিত্ব। ওই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের একটি স্বাধীন দেশ, ভূখণ্ড এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তরকে অস্বীকার করা মানে নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি গোষ্ঠী একাত্তরকে পেছনে ফেলতে চায়। কিন্তু একাত্তরকে পেছনে ফেললে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না। এগুলোই আমাদের রাজনীতির ভিত্তি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমি কখনো আদালতের বারান্দায় যাইনি। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার কারণে আমাকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা নিজের বিবেচনায় সঠিক মানুষকে ভোট দেবেন। যিনি ভোটের মর্যাদা রক্ষা করবেন, গণতন্ত্র রক্ষা করবেন—তাকেই ভোট দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
সভায় ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন ।

