উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

জামায়াতের কোনো কর্মী নেই, আছে শুধু বাণিজ্যিক সদস্য : মিলন

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ণ
জামায়াতের কোনো কর্মী নেই, আছে শুধু বাণিজ্যিক সদস্য : মিলন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রকৃত কর্মী নেই, তাদের শুধু বাণিজ্যিক সদস্য আছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন, জামায়াত জনগণের জন্য রাজনীতি করে না; তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থ রক্ষায় রাজনীতি করে।

আজ সোমবার পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মিলন বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান অতীতে একাধিকবার কুরুচিপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন। সম্প্রতি নারীদের বিষয়ে তার মন্তব্য এতটাই অশালীন যে তা প্রকাশযোগ্য নয়। ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী নিজেও একজন কর্মজীবী নারী ও চিকিৎসক। সেখানে দাঁড়িয়ে নারীদের নিয়ে এমন বক্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও নিন্দনীয়।

জামায়াত একটি চরম নারী-বিদ্বেষী দল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের কোনো নারী প্রার্থী নেই। কারণ তারা নারীদের ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চায় এবং নারীদের মানুষ নয়, পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে। জামায়াত কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে আফগানিস্তানে নারীদের যে পরিস্থিতি, বাংলাদেশেও তেমন অবস্থার সৃষ্টি হবে। এ কারণে দলমত নির্বিশেষে দেশবিরোধী শক্তিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই প্রার্থী। একই সঙ্গে জামায়াত আমিরের নারী-বিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

মিলন বলেন, নারী ও পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। নারীরা ঘরের বাইরে গেলে খারাপ হয়ে যায়—এমন ভ্রান্ত ধারণা বিএনপি কখনো লালন করে না। কারণ বিএনপির চেয়ারপারসন নিজেই একজন নারী ছিলেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তাদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পবা–মোহনপুর এলাকার উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি আমলে নির্মিত রাস্তাঘাট ছাড়া নতুন কোনো উন্নয়ন হয়নি। সংস্কারের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। বিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, কৃষকদের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষা প্রসঙ্গে মিলন বলেন, পবা–মোহনপুরে শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একজন মহীয়সী নারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার মৃত্যুতে বিশ্ববাসী শোকাহত হয়েছিল। তার জানাজায় মানুষের ঢলই প্রমাণ করে তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। এই মহীয়সী নারীর ত্যাগ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা বিবেচনা করে আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। কেননা, ধানের শীষ শুধু বিএনপির প্রতীক নয়—এটি দেশের আপামর জনগণের প্রতীক।

এদিকে, দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের জনগণ জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বিএনপির সমর্থক। তারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে সেসব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন প্রার্থী।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন দর্শনপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মাস্টার, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

Read more — রাজনীতি
Home