
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর অঞ্চল হওয়ায় কৃষকদের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি জানান, প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক এবং ব্যাংক ঋণসহ সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে যাবে। ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রধান হিসেবে রাজশাহীতে তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই মাদ্রাসা ময়দান ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের জীবনমান উন্নত হবে। বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা এর সুফল ভোগ করবেন। এছাড়া শহীদ জিয়ার খাল খননসহ পুরোনো উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে।
তারেক রহমান আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষিভিত্তিক মিল-ফ্যাক্টরি ও শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পরিকল্পনার কথা জানান।
রাজশাহীর আইটি পার্ক অচল হয়ে পড়ায় তা সচল করার এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করে তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেন। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যা থেকে সরকার থেকে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
দেশে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া রোধ করতে রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের ওপর স্থায়ী আঘাত এসেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে তিনি আখ্যায়িত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি জানান, বিএনপি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই একত্রে বসবাস করবে, যা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা।
সভায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন সভাপতিত্ব করেন। জনসভায় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

