উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

গায়ে হাত আর ফ্যামিলি কার্ড একসঙ্গে নয়: জামায়াতের আমির

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ণ
গায়ে হাত আর ফ্যামিলি কার্ড একসঙ্গে নয়: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এক দিকে গায়ে হাত, অন্য দিকে ফ্যামিলি কার্ড’ এ দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা-বোনেরা এখনই নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবেন তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’, পাল্লার মাপে কোনো কম বা বেশি করব না। যার যা প্রাপ্য তা বুঝে দেব।

মঙ্গলবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘৫ আগস্টের পর কিছু মানুষের চেহারা রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে গেছে। দখলদারিত্ব আর চাঁদাবাজিতে তারা লিপ্ত হয়েছে।’ ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ কোনো বিশেষ পরিবার বা দলের রাজনীতি চায় না; তারা চায় জনগণের রাজনীতি। আসন্ন গণভোটই ঠিক করবে দেশ ‘স্বাধীনতার পথে’ যাবে নাকি ‘গোলামির পথে’। গণভোটে বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসন, দলীয় চাঁদাবাজি বা জনসম্পদে হাত দেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।’

নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘কিছু সংগঠন একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে, অন্যদিকে আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত তোলে। যারা এখনই মা-বোনদের বেইজ্জতি করে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।’

তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, কর্মস্থল এবং যাতায়াতের জন্য নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা ও পৃথক উন্নত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সব ধর্মের মানুষ যেন তাদের ধর্মীয় পোশাক ও রীতি পালন করতে পারে, সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

ডা. শফিকুর রহমান যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের লজ্জিত করতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলে সম্মানের কাজ দিতে চাই। বেকার ভাতা মানে বেকারত্বকে উৎসাহিত করা, যা আমরা করব না।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ আজ পিষ্ট। আমরা এই সিন্ডিকেটের হাত গুঁড়িয়ে দেব এবং ব্যবসায়ীদের চাঁদার হাত থেকে মুক্তি দেব।’

এমনকি যারা বর্তমানে ভুল পথে বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসিত করার আশ্বাস দেন। যশোরে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জামায়াত কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। ভুয়া ও গায়েবি মামলার মাধ্যমে কাউকে হয়রানি না করার জন্য তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন।’

পরিশেষে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেই তরুণরা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনেছে, তারাই পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’

এসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে এবং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে আমির জামায়াত যশোরের ৬টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকৃতি তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

Read more — রাজনীতি
Home