উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন ২৯ স্বতন্ত্র প্রার্থী

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন ২৯ স্বতন্ত্র প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীরা। দলের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর বার্তা দেওয়ার পরও ৭৯ আসনে ৯২ জন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে অন্তত ২৯ জন শক্তিশালী প্রার্থী। যাদের রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক। এতে বড় ধরনের ভোটব্যাংক হারিয়ে ব্যাকফুটে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।

জানা গেছে, জনপ্রিয়তায় ধানের শীষের প্রার্থীর সমকক্ষ কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগকারী ডা. তাসনিম জারাকে নিয়ে আলোচনা আছে বেশ। ভোটের প্রচারে তাসনিম জারা এলাকার সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কিছু জায়গায় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। অনেকে নিজ থেকেই সরে যাবেন। দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।’

বিএনপির একাধিক সূ্ত্রে জানা গেছে, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনি আসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। এদের আবার কেউ কেউ সাবেক সংসদ সদস্য। ফলে ভোটের মাঠে তারাই এখন বিএনপির ভোটব্যাংকে ভাগ বসাচ্ছেন। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। এছাড়া হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষেও নেতা-কর্মীদের একটি অংশ কাজ করছে। কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার জন্য বার বার সর্তকবার্তা দেওয়া হলেও অনেকে নেতা-কর্মীই তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছেন না। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কমিটিগুলোও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। প্রার্থীদের ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু তারপর ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে চিন্তিত বিএনপি।

ঢাকায় তিনজন বিএনপির স্বতন্ত্র, একজন এনসিপির 

ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে বিএনপির তিনজন শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তিনজনের প্রতীক ফুটবল। ঢাকা-৭ আসনে (লালবাগ-চকবাজার-বংশাল-কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালি আংশিক) বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে অনেকে সরে দাঁড়ালেও ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। তার বিরুদ্ধে ৩৬৫ মামলা রয়েছে। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমুখী কাজ করেছেন। তবে এই আসনে দুজন প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। তাদের ভাষ্যমতে, এতে জামায়াতে ইসলামী বাড়তি সুবিধা পাবে।

ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল-হাতিরঝিল-শেরেবাংলা নগর আংশিক) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে জোট শরিক হিসেবে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। তার বিপরীতে মাঠে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ও জামায়াতের সাইফুল আলম খান মিলন। নীরবের পক্ষে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ কাজ করছেন। যা তাকে ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের পর থেকেই এলাকার নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করে আসছেন তিনি। সবমিলিয়ে এই আসনে সাইফুল হকের চেয়ে নীরব ও মিলন কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

ঢাকা-১৪ আসনে (মিরপুর-শাহ আলী-দারুস সালাম) দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে। সাবেক এমপি খালেকের এই আসনে নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। যা ভোটের মাঠের ধানের শীষের জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ঢাকা-৯ আসনে (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, মান্ডা) নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় আছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি শুরুর দিকে এনসিপির প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে কেন্দ্র করে দলটি থেকে সরে দাঁড়ান। তাসনিম জারা জামায়াত জোটের প্রার্থী না হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষও তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। তবে এনসিপির অন্য প্রার্থীদের নিয়ে ভোটের মাঠে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ও জামায়াত জোটের এনসিপির প্রার্থী জাবেদ রাসিন। তবে ভোটাররা মনে করছেন, এই আসনে হাবিব ও তাসনিম জারার মধ্যেই মূল লড়াই হবে। তারা দুজনই প্রচারে এগিয়ে আছেন। অন্য প্রার্থীরা থাকলেও ভোটাররা তাদের তেমন একটা চেনেন না।

ঢাকার বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা

খাগড়াছড়ি আসনে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন ঘোড়া প্রতীকের ধর্মজ্যোতি চাকমা। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। পাহাড়ি আঞ্চলিক দলের গোপন সমর্থন এবং সাম্প্রদায়িক বাস্তবতা থাকায় তিনি এবারের নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। খাগড়াছড়িতে মূলত বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে ভোটযুদ্ধ হবে ধর্মজ্যোতি চাকমার।

নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজিম ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তানভীর উদ্দিন রাজিব। উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনা, প্রকৌশলগত দক্ষতা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। পরিবর্তনের আশায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। হাতিয়াজুড়েই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।

কুড়িগ্রামের একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী চিলমারী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান শাহীন। তিনি কুড়িগ্রাম-৪ আসনে (চিলমারী-রৌমারী ও রাজীবপুর) বালতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর মোস্তাফিজুর রহমান। আজিজুর ও মোস্তাফিজুর আপন দুই ভাই। তারা রৌমারীর বাসিন্দা। এ কারণে ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীনই বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটাররা মনে করছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান থাকায় শাহীনের ব্যক্তিগত ভোট রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তরে একমাত্র প্রার্থী শাহীন। আর এ কারণে ভোটের মাঠে তিনি হিসাব বদলে দিতে পারেন।

রাজবাড়ী-২ আসনে (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থানের কারণে তিনি এই আসনের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি। তৃণমূল পর্যায়ে তার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী-সমর্থক রয়েছে। যা তাকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকার কারণে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনো দৃশ্যমান। তার নির্বাচনি প্রতীক ‘কলস’। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ হারুন। বিএনপির প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী। তার প্রতীক হচ্ছে ফুটবল। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং জামায়াত জোটের মাওলানা জহিরুল ইসলাম। ধারনা করা যাচ্ছে, উপকূলীয় এলাকার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে লেয়াকত আলী বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সময়ে বেশি মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। নিজেকে ‘কৃষকের ছেলে’ পরিচয় দিয়ে লেয়াকত আলী প্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপি ও জামায়াত জোটের ভোটে ভাগ বসাবেন তিনি।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভপুর) শক্তিশালী প্রার্থী হাসনরাজার প্রোপৌত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভা ও টানা চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান। তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। ভোটের মাঠে তিনি কখনই হারেননি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল, জামায়াতের শামছ উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদা হিমেল। তবে অন্যদের চেয়ে জয়নুল জাকেরীন এগিয়ে আছেন।

বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তিনি বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তার প্রতীক ‘ঘোড়া’। ২০০১ থেকে ২০০৬৬ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় ভোটারদের মনে করেন, বাগেরহাটের উন্নয়নের জন্য সেলিমের বিকল্প নেই। উন্নয়নের আশায় তরুণ ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।

টাঙ্গাইল-৩ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছে ভোটাররা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি এমপি ও মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ঘাটাইলে রাজনীতির মাঠে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বড় একটি অংশই ধানের শীষ বলতে আজাদকে বোঝেন। তারা তাকেই নিরাপদ মনে করেন।

টাঙ্গাইল-৫ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ। তারা তিনজনই শক্তিশালী প্রার্থী। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তবে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলে ফরহাদ ইকবালের একচেটিয়া সমর্থন রয়েছে।

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে দুই শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও জেলা বিএনপির সদস্য ডাক্তার ইয়াসির আরশাদ রাজন। এই আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। রাজন ও পুতুল আপন ভাইবোন। পুতুলকে মনোনয়ন দিলেও দীর্ঘদিন ধরে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে টিপু ও রাজনের সম্পর্ক গভীর। তারা নেতা-কর্মীদের বিপদে পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। ভোটের হিসাব পাল্টে দেবে এই স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী।

এ ছাড়া, ময়মনসিংহ-৩ আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আহাম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরণ, জয়পুরহাট-১ আসনে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাবেকুন নাহার শিখা (ঘোড়া মার্কা), বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খাইরুজ্জামান শিপন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে।

চ্যালেঞ্জের মুখে জোট শরিকরাও

বিএনপি জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ১৭টি আসনের মধ্যে স্বস্তিতে আছেন চারজন প্রার্থী। বাকি ১৩ আসনের প্রার্থীদের জয়ের পথে বাধা হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এতে কয়েকটি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীও জয়ী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। এই আসনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) ও জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান। উবায়দুল্লাহ ফারুক ও চাকসু মামুন সম্পর্কে খালাতো ভাই। এই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ও জামায়াত জোটের ভোটব্যাংক তো আছেই। পাশাপাশি ইসলামী ঘরানায় খেলাফত মজলিসেরও ভোটব্যাংক আছে। ফলে চাকসু মামুন প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ঘরানার ভোট এখন বিভক্ত হবে। একচেটিয়া ভোট বাক্স কারোরই থাকবে না। এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে আভাস দেখছেন ভোটাররা।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। কালীগঞ্জে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, এলাকাবাসী দলমত নির্বিশেষে তাকে নির্বাচিত করতে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বিএনপির যারা মামলা-হামলার শিকার হয়েছিলেন তাদের পাশেও ছিলেন ফিরোজ। অন্যদিকে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান অন্য উপজেলার বাসিন্দা।

যশোর-৫ আসনে জেলার একমাত্র স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। তার প্রতীক কলস। আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি থাকার কারণে তার সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের যোগাযোগ রয়েছে। এই আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি রশীদ আহমাদ ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, বারবার জোটের শরিকদের মনোনয়ন দেওয়ায় মনিরামপুরে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলের নেতা-কর্মীর জন্য বিএনপি নেতার এমপি হওয়ার দরকার আছে।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন (ঘোড়া প্রতীক)। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর ধরে তিনি এই নির্বাচনি এলাকায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এলাকায় তার নিজস্ব নেতা-কর্মী ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির বড় অংশের নেতা-কর্মী সরাসরি হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপি এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন।

নড়াইল-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের বিপরীতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তের মনির হোসেন কাসেমীর বিপরীতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা তিনজনই ভোটের মাঠের সমীকরণ পাল্টে দেবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা। 

Read more — রাজনীতি
Home