
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।
আজ বুধবার রাজশাহী-৩ আসনের দলীয় প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও রাজশাহী-২ আসনের দলীয় প্রার্থী ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর নিজ নিজ আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন রাজশাহী-২ আসনের দলীয় প্রার্থী ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এসময় মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, সেক্রেটারি এমাজ উদ্দীন মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, শিল্প ও বাণিজ্য সেক্রেটারি অধ্যাপক এ কে এম সারওয়ার জাহান প্রিন্স, মহানগর শিবিরের সেক্রেটারি ইমরান নাজিরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন আবুল কালাম আজাদ। এসময় মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আহসান বুলবুল, প্রশিক্ষণ সেক্রেটারি হাফেজ মো. নুরুজ্জামান এবং উপাধ্যক্ষ আব্দুল আওয়ালসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে রাজশাহী-২ আসনের দলীয় প্রার্থী ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনের প্রথম ধাপ হিসেবে মনোনয়নপত্র উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আমি আমার দায়িত্বশীল পথচলা শুরু করলাম।
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় তিনি আরও বলেন, “এই আসনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই পারেন—এটি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পবা ও মোহনপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। ইনশাআল্লাহ, তারা দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।”
ভোটের পরিবেশ ও জনগণের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মানুষের ভোটের প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ ঘটবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ, কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।”
নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে পবা ও মোহনপুরে সর্বাগ্রে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কাজ করব। আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। জনগণের জান-মাল ও সম্মান রক্ষায় আমি আপসহীন ভূমিকা পালন করব।”
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় সুনিশ্চিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা আর দুর্নীতি ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতি দেখতে চায় না। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা আশাবাদী—রাজশাহী-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় ইনশাআল্লাহ সুনিশ্চিত হবে।”
এদিকে বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন রাজশাহী-২ আসনের দলীয় প্রার্থী ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এ সময় তার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

