
কোরআনুল কারিম কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নাজিলকৃত চিরন্তন বার্তা, হেদায়েতের আলোকবর্তিকা এবং জীবনবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। মুমিনের হৃদয়ে এর স্থান অপরিসীম। ঈমানের অন্যতম দাবি হলো, এই মহাগ্রন্থের প্রতি গভীরতম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং পূর্ণ আনুগত্য।
এই ভালোবাসার এক নিবিড় প্রকাশ হলো- এর গভীরতম জ্ঞান অর্জন। যেমন প্রিয়জনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি ভাব জানতে মন আকুল হয়, তেমনি মুমিনের অন্তরে কোরআনের প্রতিটি সুরা, প্রতিটি আয়াত এবং এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থ জানার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগে। এই আকাঙ্ক্ষার পথে প্রথম ধাপ হলো, সুরাসমূহের নামের তাৎপর্য অনুধাবন করা এবং প্রতিটি সুরার মূল আলোচ্য বিষয়ের পরিচয় লাভ করা। সুরার নাম কেবল পরিচায়ক চিহ্ন নয়, বরং এতে লুকিয়ে আছে সুরার মূল বার্তা, বিশেষ ঘটনা ও গভীর ইঙ্গিত। আর আলোচ্য বিষয়? তা তো সরাসরি আমাদের জীবনপথের দিকনির্দেশক।
সুরা আন-নিসা
অর্থ:‘নারীগণ’ (আন = দ্য; নিসা = নারী)
এই সুরার নামকরণ হয়েছে নারীদের অধিকার, দায়িত্ব ও সম্মান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থেকে। মদিনায় নাজিলকৃত এই সুরাটি (১৭৬ আয়াত) নারীদের প্রতি ইসলামের ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ:
নারীদের বিবাহ, মোহরানা, তালাক, ইদ্দত ও মীরাসের বিধান
ইয়াতিম, দুর্বল ও অসহায়দের প্রতি ন্যায় ও দয়া
সমাজে সাম্য, ন্যায়বিচার ও পারিবারিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা
মুনাফিকদের চিহ্নিতকরণ ও সতর্কতা
আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও একত্ববাদের দাওয়াত
এই সুরা নারীকে সম্মানিত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যা জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে তাদের মুক্তির আলোকবর্তিকা। এই জ্ঞান যখন হৃদয়ে স্থান পাবে, তখন কোরআন আর কেবল পড়ার গ্রন্থ থাকবে না, বরং হয়ে উঠবে জীবনের সঙ্গী, অন্তরের আলো এবং প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মিশে যাওয়া প্রেম।
আসুন, এই পরিচয়কে শুরু মেনে নিয়ে প্রতিদিন একটি সুরা নিয়ে গভীরভাবে পড়ি, চিন্তা করি, আমল করি। তা হলেই কোরআন আমাদের জন্য হয়ে উঠবে ‘রুহের খোরাক’ এবং জান্নাতের পথের সওগাত।

