উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহীর-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন। রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দেয়া হলেও শুধুমাত্র রাজশাহী-৩ আসনে বহিরাগত প্রার্থী দেয়া হয়েছে। তাই এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. শফিকুল হক মিলনের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।রাজশাহী ভ্রমণ

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আন্ধার কোটা মোড়ে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে পবা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

বিক্ষোভ মিছিলটি আন্ধার কোটা মোড় থেকে শুরু হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় “স্থানীয় প্রার্থী চাই”এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দেয়া হয়েছে, শুধুমাত্র রাজশাহী-৩ আসনে বহিরাগত প্রার্থী দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে কেন্দ্র থেকে যেভাবে শফিকুল হক মিলনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তা তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ভোটার মিলন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির বাইরে রয়েছেন এবং দলীয় কর্মসূচি বা আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ফলে এলাকায় তাঁর জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা।

বক্তারা আরও বলেন, রাজশাহী-৩ আসনের জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান একজন ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও জননন্দিত নেতা, তিনি দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। অথচ তাকে উপেক্ষা করে এমন একজনকে প্রার্থী করা হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে মিলনের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকে রাজশাহী-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

হুজরীপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান বলেন,“রাজশাহী-৩ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দেয়া হয় নাই। কিন্তু অন্য আসনগুলোতে স্থানীয় প্রার্থী দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দল যখন কঠিন সময় পার করেছে, তখন যারা রাজপথে ছিলেন না, তাদের হঠাৎ করে প্রার্থী করা হলে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে আন্দোলন ও সংগ্রামের সময় যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদেরই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।”

হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ বলেন,“আমরা গুলির ভয় না পেয়ে, মামলা-হামলার ভয় না পেয়ে রাজপথে ছিলাম। এখন সেই ত্যাগের কোনো মূল্য নেই! বাইরে থাকা লোকেরা প্রার্থী হবে, আর আমরা কেবল হাততালি দেব—এটা মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরা স্থানীয় প্রার্থী চাই, দিতে হবে।”

হজরীপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন,“আমাদের রক্ত, ঘাম, অশ্রু মিশে আছে এই মাটিতে। সেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া মানে আমাদের আত্মত্যাগের প্রতি অবজ্ঞা।”

এসময় বক্তব্য রাখেন- হজরীপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, দামকুড়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম চুন্নু, হুজরীপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, পবা উপজেলা শ্রমিকদল যুগ্ম আহবাযক মাজদার হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক কালু ও মিজানুর রহমান মিনু।

উপস্থিত ছিলেন প্রজন্ম-৭১ এর জেলা আহবায়ক মিলন হোসেন, পবা উপজেলা আহবায়ক শুকুর আলী, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হান্নান সরকার, বিপ্লব আলী, আসগর হোসেন, মাইনুল ইসলাম, শমসের আলী প্রমুখ।

এর আগে গত রোববার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে নগরীর অলোকার মোড় এলাকায় মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শফিকুল হক মিলনের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়। মিছিল থেকে বিএনপি নেতা সাবেক (প্রয়াত) মন্ত্রী কবির হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দিন অস্থিরকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন নাসির উদ্দিন অস্থির ও রায়হানুল আলম রায়হান। তবে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় অ্যাড. শফিকুল হক মিলনকে।

Read more — রাজনীতি
Home