
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ সব সময়ই কিছুটা স্লো এবং লো বলে পরিচিত। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডেতে সেটি যেন রীতিমতো টার্নিং ট্র্যাকে পরিণত হয়। স্পিনারদের বল এমনভাবে ঘুরছিল যে, ব্যাটারদের সামলানোই দায় হয়ে পড়েছিল। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন কিংবা অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ—সবারই ব্যাটে-বলে মিল খুঁজে পাওয়া ছিল কষ্টসাধ্য।
এরপর যখন বাংলাদেশ বোলিংয়ে আসে, তখন সেই টার্নিং উইকেটকে কাজে লাগান লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। তার বলেও ছিল প্রচণ্ড টার্ন, যা সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। মাত্র ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ১৩৩ রানে। ফলে বাংলাদেশ পায় ৭৪ রানের দারুণ জয়।
রিশাদ দেখিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং নৈপুণ্য। ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি গড়েছেন ইতিহাস—ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি স্পিনার এখন রিশাদ। তার এমন পারফরম্যান্সের পর দলীয় কৌশলেও এসেছে পরিবর্তন।
শেরে বাংলার এই টার্নিং উইকেটে পেস বোলারের চেয়ে স্পিনাররাই কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছেন। তাই টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট বাড়তি এক স্পিনারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ যোগ দিচ্ছেন দলে।
এতে স্পিন আক্রমণ আরও শক্তিশালী হলো। অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ, লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন, বাঁ-হাতি তানভির ইসলামের সঙ্গে এখন দলে যুক্ত হলেন আরেক বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম। অর্থাৎ, বাংলাদেশ এখন দলে পাচ্ছে চার স্পিন বিকল্প—যা শেরে বাংলার উইকেটের উপযোগী এক সাজানো পরিকল্পনা।
৩০ বছর বয়সী নাসুম আহমেদ বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৮ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন, উইকেট নিয়েছেন ১৬টি। যদিও তিনি মূলত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশি পরিচিত মুখ, তবুও ওয়ানডেতেও তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টাইগার ম্যানেজমেন্টের ধারণা, মিরপুরের এই ধীরগতির ও টার্নিং উইকেটে বাড়তি স্পিনার থাকলে দলে ভারসাম্য আসবে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দলে যদি থাকে একাধিক ডানহাতি ব্যাটার, তখন বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুমকে ব্যবহার করা যেতে পারে আক্রমণাত্মক কৌশল হিসেবে।
বাংলাদেশ দল এখন এমন অবস্থায় আছে, যেখানে স্পিনই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ও সেটিরই প্রমাণ। রিশাদ, তানভির, মিরাজ—সবাই মিলে একসঙ্গে তৈরি করেছেন এক স্পিন-সিন্ডিকেট। এখন তাতে যোগ হলো নাসুমের বাঁহাতি বৈচিত্র্য।
বাংলাদেশ দল:
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মাহিদুল ইসলাম অংকন, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন, কাজী নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, হাসান মাহমুদ ও নাসুম আহমেদ।

