
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, পেশীশক্তির ব্যবহার ও কালো টাকার প্রভাব রোধে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পি.আর.) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন জরুরি। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামী কার্যালয়ে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচনে পি.আর. পদ্ধতি” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই মতামত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
তারা বলেন, পি.আর. পদ্ধতিতে ভোটের প্রতিফলন সংসদে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে রাজনীতিতে সহিংসতা, পেশিশক্তি ও অর্থবিত্তের প্রভাব কমে আসে। প্রচলিত ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ পদ্ধতিতে প্রার্থী মোট ভোটের অল্প অংশ পেয়েও জয়ী হন, ফলে অধিকাংশ ভোটারের মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো দল জাতীয়ভাবে ২০–২৫ শতাংশ ভোট পেলেও সাংগঠনিক দুর্বলতা বা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে সংসদে প্রতিনিধিত্ব না পাওয়াটা গণতান্ত্রিক নয়। পিআর পদ্ধতিতে প্রতিটি দলের ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন বরাদ্দ হলে ছোট দল, সংখ্যালঘু, নারী ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়, যা রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করে।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগর আমীর ড. মাওলানা কেরামত আলী। সহ-সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. শাহাদৎ হোসাইন ও অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল।
এসময় বক্তব্য রাখেন—রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু সেলিম, রাজশাহী সদর-২ আসনের জামায়াত-মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক সরদার আব্দুর রহমান, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক রাজশাহী সংবাদ–এর প্রধান সম্পাদক ডা. নাজিব ওয়াদুদ, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফাতেমা সিদ্দিকা, উপাধ্যক্ষ ডা. একেএম মহিউদ্দিন, প্রফেসর ইসমত আরা বেগম, অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান, আদর্শ শিক্ষক পরিষদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রফেসর জে. এ. এম. সাকিলউর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. কামরুল আহসান, এবং অ্যাড. হাসানুল বান্না সোহাগ প্রমুখ।

