
এশিয়া কাপের অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের ১১ রানের আত্মঘাতী হারে টুর্নামেন্টের একটি অপূর্ণতা ঘুচেছে। এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে ১৭ আসর মিলিয়ে এই প্রথম ফাইনালে দেখা হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দুদলের শেষ সাত ম্যাচেই জিতেছে ভারত। এবারের আসরেও গ্রুপপর্ব ও সুপার ফোরে ভারতের কাছে পাত্তা পায়নি পাকিস্তান। দুবাইয়ে রবিবাসরীয় ফাইনালে ছবিটা কি বদলাবে? পাকিস্তান দল এবার আত্মবিশ্বাসী। অধিনায়ক সালমান আগা জানিয়েছেন, ভারতকে কীভাবে হারাতে হয়, সেটা তাদের জানা আছে। ভারত-বধের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন কোচ মাইক হেসন। ফাইনালে ভারতকে হারানোর টোটকা দিয়েছেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম ও শোয়েব আখতার।
গত পরশু রাতে পাকিস্তান ফাইনালে ওঠার পর ভারতের গেরো খুলতে উত্তরসূরিদের সুনির্দিষ্ট দুটি পরামর্শ দিয়েছেন শোয়েব আখতার, ‘অনুমিত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা ভাবা যাবে না যে, ভারতের বিপক্ষে খেলছি। মনে করতে হবে, বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছি। ২০ ওভার বোলিংয়ের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। ওদের অলআউট করার কথা ভাবতে হবে। প্রথম দুই ওভারের মধ্যে অভিষেক শর্মাকে আউট করতে পারলেই চাপে পড়ে যাবে ভারত। এমন নয় যে, অভিষেকের সব শট গ্যালারিতে গিয়ে পড়বে। অবশ্যই সে সুযোগ দেবে। সেটা কাজে লাগাতে হবে।’
ওয়াসিম আকরাম জোর দিয়েছেন ছন্দ ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার ওপর। তার পরামর্শ, ‘ফাইনালে ভারত ফেভারিট হলেও যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। পাকিস্তানকে শুধু আত্মবিশ্বাস ও মোমেন্টাম ধরে রাখতে হবে। নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে হবে। শুরুতেই কয়েকটি উইকেট নিতে পারলে ব্যাকফুটে চলে যাবে ভারত। আশা করি, দিন শেষে সেরা দলটিই জিতবে।’
কোচ মাইক হেসনের চাওয়া, মাঠের বাইরের সব বিতর্ক ভুলে খেলাতেই পুরো মনোযোগ দিক তার শিষ্যরা। বলেছেন, ‘ছেলেদের বলেছি, ক্রিকেটে পুরো মনোযোগ দিতে এবং বাকি সব ভুলে যেতে। আমরা যেন ক্রিকেট নিয়েই শুধু ভাবি, সেটাই আমাদের কাজ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আলাদা চাপ ও উত্তেজনা থাকেই। তার প্রভাবে মাঠে কিছু বিতর্ক তৈরি হতেই পারে। কিন্তু আমরা ক্রিকেটের বাইরে অন্য কিছু নিয়ে ভাবব না। নিজেদের যোগ্যতায় ফাইনালে ওঠার পর এখন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। ভারতকে হারানোর পরিকল্পনা এখন মাঠে বাস্তবায়ন করতে হবে। ফাইনালে জিতলে আগের দুই হারের কথা সবাই ভুলে যাবে।’
কোচের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক সালমান আগা, ‘ফাইনাল নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত। জানি, রোববার আমাদের কী করতে হবে। এখন আমরা যে কোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০-১৫ রানের ঘাটতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত জিতেছি। এ ধরনের ম্যাচ জিততে পারলে বুঝতে হবে দলটা স্পেশাল।’
ইতিহাসও হতে পারে পাকিস্তানের প্রেরণা। বহুজাতিক (অন্তত পাঁচ দল) টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে আগের পাঁচ ফাইনালের তিনটিই জিতেছে পাকিস্তান। ১৯৮৫ সালে মেলবোর্নে বেনসন অ্যান্ড হেজেস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথম শিরোপাযুদ্ধে মুখোমুখি হয় চিরবৈরী দুই পড়শি। সেবার ভারত জিতেছিল আট উইকেটে। এরপর শারজায় ১৯৮৬ ও ১৯৯৪ সালে দুবার অস্ট্রেলিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে হারায় পাকিস্তান। জোহানেসবার্গে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত জেতে পাঁচ রানে। এর ১০ বছর পর দ্য ওভালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে গুঁড়িয়ে পাকিস্তান জিতেছিল ১৮০ রানে। এবার দুবাইয়ে ক্লাসিকো ফাইনালের ষষ্ঠ পর্ব।

