
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় যথেষ্ট ভালো বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে কোনো গুম, ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সময়ের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমে পুলিশ বাহিনী বর্তমান পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ পড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে বাদ পড়া কর্মকর্তাদের পুনরায় নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
জানা গেছে, গত ২ আগস্ট সরকার ৫৮ জন বিসিএস পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে ২৭তম বিসিএসের ৫৭ জন এবং ২৮তম বিসিএসের একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাদের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করেছিল।
আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ নেত্রীর দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কে কখন আসতে চাচ্ছেন, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ীই সবার বিচার হবে।'
নাটোরে এক সংসদ সদস্যের ছেলেকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই একজন সংসদ সদস্যের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন যথেষ্ট ভালো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নবীন কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবং জনবান্ধব নতুন পুলিশিং ব্যবস্থার স্বাদ দেশবাসীকে উপহার দিতে হবে।
এদিকে, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। সবকিছু জেনে তারপর মন্তব্য করা হবে। এর আগে বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ি এ তথ্য নিশ্চিত করে।
সব শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে একটি দক্ষ আধুনিক যুগোপযোগী ও সেবাধর্মী মানবিক বাহিনীতে পরিণত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মাইনুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ১২০ জন সার্জেন্ট এবং ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ৩২৭ জনকে চাকরিচ্যুত করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসন যাচাই কমিটির পর্যালোচনার পর ৮৪ জন সার্জেন্ট এবং পাঁচজন নারীসহ ১৫৭ জন পুরুষ সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

