
আলঝেইমার্স, যাকে বলা হল ভুলে যাওয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ। বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি নারী। সচেতনতার অভাব, প্রশিক্ষিত চিকিৎসাসংকট ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা সীমিত থাকায় এই রোগ বাড়ছে। দেশে আলঝেইমার্স রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে জাতীয় পর্যায়ে নিরূপণ করা হয় না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ডা. ফ্লোরা তাসমীম গণমাধ্যমকে বলেন, আলঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন কোনো ধরনের প্রকল্প বা কার্যক্রম নেই। এই রোগে রোগীর সংখ্যাও হিসাব করা হয় না।
আজ ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আলঝেইমার্স দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৮ সালে এই রোগে ১৪ হাজার ৩৪০ জনের মৃত্যু হয়, যা আক্রান্তের ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ২০২০ সালে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৯৩। মৃত্যুর হার ছিল ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অনেকের ধারণা, এই রোগে আক্রান্ত রোগীর বড় অংশ হিসাবের বাইরে রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতারের গবেষণায় দেশে এই রোগীদের একটি চিত্র উঠে এসেছে। তার গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১১ লাখ ডিমেনশিয়া রোগী আছে। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮০ হাজার (২৪ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ৩০ হাজার, যা মোট আক্রান্তের ৭৫ শতাংশেরও বেশি।
বাংলাদেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮ শতাংশ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। দেশে প্রতি ১২ জন প্রবীণের মধ্যে একজন এই রোগে ভুগছেন। ২০২১ সালে আইসিডিডিআর,বি ও জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের প্রবীণরা এতে আক্রান্ত হয়, তাই চিকিৎসাও ভালো হয় না। কারণ পরিবার মনে করে বয়স হলে মানুষের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হবে, এটিই তো স্বাভাবিক। কিন্তু উন্নত বিশ্বে ভুলে যাওয়া রোগের ভালো চিকিৎসা আছে। আলঝেইমার্স আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগ মাঝারি মাত্রার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ অনেকেই শনাক্ত করতে পারেন না।

