উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই

পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় রাজশাহীর দক্ষিণ তীরের চরাঞ্চলে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার অনেক পরিবার। কোথাও বসতঘরের উঠানে পানি, কোথাও যোগাযোগের পথ তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটও দেখা দিয়েছে।

শনিবার বেলা ১২টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। বিপদসীমা ছুঁইছুঁই ও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে প্রায় ১০ দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় পদ্মার পানি ছিল ১৭ দশমিক ০৫ মিটার। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুপুর ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ১২ মিটারে। অর্থাৎ ওই সময়ে পানি বেড়েছিল ৭ সেন্টিমিটার। এরপরও নদীতে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ২০ মিটারে। আর গতকাল আরও ০ দশমিক ১০ মিটার বেড়েছে।

রাজশাহী শহরের বিপরীত পাশে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশিরভাগ নিচু এলাকা এখন পানির নিচে। এছাড়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন চরে বাড়িঘরে পানি উঠেছে। তারা চর ছেড়ে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের উপরে গবাদিপশু নিয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ উঠেছেন স্বজনদের বাড়িতে। আবার কেউ পানির মধ্যেই বসবাস করছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় দুর্গতদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটারগেজ রিডার এনামুল হক জানান, পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে এখনো কোনো ঝুঁকি নেই। তবে পদ্মার দক্ষিণের চরাঞ্চলে পানি উঠছে। ফলে সার্বিক বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাঁধের কোনো স্থানে ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পদ্মার পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য চরাঞ্চলসহ তিনটি স্থানে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। গবাদিপশু রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home