উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

যেভাবে এলো বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই জয়

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ণ
যেভাবে এলো বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই জয়

নাহিদ রানা ছিটকে গেছেন পুরো সিরিজ থেকে। শরিফুল ইসলাম আর লিটন দাসকে নিয়েও ছিল না ভালো কোনো খবর। এমন পরিস্থিতিতেই অস্ট্রেলিয়ার বিমান ধরে বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে লিটন কুমার দাসও রওনা দেন।

এমন সব ঘটনায় বাংলাদেশ আদৌ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করতে পারবে কিনা তা নিয়েও ছিল নানা গুঞ্জন। তবে মাঠে খেলা গড়াতেই যেন সব বদলে গেলো। প্রথম বল থেকেই সব সেশনেই দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় তুলে নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

 

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাররা এক হাসান মাহমুদের বিপক্ষেই হিমশিম খাচ্ছিল। পরে তাতে যোগ দেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন।

১২তম ওভারে গিয়ে ৪৫ রানের মাথায় উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ২৩ রান করা জ্যাক ওয়েদারল্যান্ডকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। এরপর ৫২ রানের মাথায় ট্রাভিস হেডকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরের রাস্তা দেখান হাসান।

 

ওয়ান ডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেন ২০ বলে খেলে মাত্র ১ রান করে এবাদত হোসেনের বলে শান্তর ক্যাচ হয়ে ফেরেন। চতুর্থ উইকেটে জুটি বাধার চেষ্টা করছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। কিন্তু দলীয় ৭৪ রানের মাথায় তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন ক্যামেরন গ্রিন। ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি।

এরপর নিজেদের দিকে টেনে নিতে শুরু করেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারে জুটি। তাদের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫৫ রানের জুটি। অবশেষে দলীয় ১২৯ রানের মাথায় আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ৪৩ বলে ১৯ রান করা ক্যারিকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি।

এবাদত স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারের ভয়ঙ্কর জুটিটা ভাঙার পর অস্ট্রেলিয়ানদের স্বস্তিতে থাকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা বিউ ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করে দেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ পেসার। যার ফলে ১৫২ রানেই সাজঘরে ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ার ৬ষ্ঠ ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়ন আউট হলে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

 

এরপর ভালো শুরু করলেও সাদমান ইসলাম বিদায় নেন ৩০ বলে ২০ রান করে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুমিমুল হক সৌরভ ও তানজিদ তামিম গড়েন ১০২ রানের জুটি। মাত্র ১ রানের জন্য ফিফটি মিস করেন মুমিনুল। তামিম করেন ১০১ রান। শেষ দিকে টেলএন্ডারদের নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস ৪০০ পার করানো মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান।

এতে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে আবারও শুরুতেই জোড়া ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। দুই অসি ওপেনারকেই তুলে নেন তিনি।

এরপর শুরু হয় মেহেদী হাসান মিরাজের ভেলকি। একে একে তুলে নে ৫ উইকেট। একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি করা ক্যামেরুন গ্রিন পথের কাঁটা হয়ে উঠছিলেন। শেষ দিকে সেই কাঁটা উপড়ে ফেলেন হাসান।

 

চতুর্থ দিন সকালের উইকেট থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ যে টার্ন আর বাউন্স পেলেন, অস্ট্রেলিয়ার লেজটাকে ছেঁটে দিতে সেটাই যথেষ্ট ছিল। ইনিংসের ৬০তম ওভারে মিরাজের বাঁক খাওয়া একটা বল লাফিয়েও উঠেছিল একটু। ব্যাটের কানায় বল ছুঁইয়ে কট বিহাইন্ড ক্যারে।

এরপর ৬৬, ৭৪ ও ৯৬তম ওভারে তিনি ফিরিয়েছেন বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স আর শেষ ব্যাটার নাথান লায়নকেও। সব মিলিয়ে ৬৬ রান দিয়ে টেস্টে ১৫তম বারের মতো ৫ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রানের। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তামিম এবার শূন্য রানে ফেরেন! যদিও তাতে কোনো সমস্যাই হয়নি সাদমান ইসলাম (২৫) ও মুমিনুল হক (৩০) মিলেই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।

 

 

Read more — খেলাধুলা
Home