
জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই গণমাধ্যমের প্রতি কঠোর বার্তা দিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে যেকোনো সমালোচনা গ্রহণ করবেন জানালেও, পরিবারকে অযথা টার্গেট করা হলে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ছাড়াই দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মানির কোচ হিসেবে পরিচয় পর্বে ক্লপ জানান, সাংবাদিকদের আচরণই তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা। তিনি বলেন, ‘আমি এই দায়িত্ব নিচ্ছি, যদিও দেখেছি আপনারা জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন। ইংল্যান্ডে থমাস টুখেলকেও কীভাবে সামলেছেন, সেটাও দেখেছি।’
এরপরই স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ। তিনি বলেন, “আপনারা যদি আগামীকালই বলেন, ‘সে বাজে’, তাহলে সেটা আমার মুখের ওপর বলুন, আমি সঙ্গে সঙ্গে চলে যাব। কোনো ক্ষতিপূরণও নেব না। কিন্তু যদি বাজে আচরণ করেন এবং আমার পরিবারকে শান্তিতে থাকতে না দেন, তাহলে আমি সরে দাঁড়াব। এক মুহূর্তও থাকব না।”
ক্লপ বলেন, মাঠে ব্যর্থ হলে তাকে সমালোচনা করা হোক, এতে তার কোনো আপত্তি নেই। তার ভাষায়, ‘কোনো কিছু কাজ না করলে ক্লপকে সমালোচনা করুন। জাতীয় দলের পর আমার আর কোনো কোচিং ক্যারিয়ার থাকবে না। এটাই আমার কোচিং জীবনের সর্বোচ্চ শিখর। তাই আমার সবকিছু উজাড় করে দেব।’
দুই বছর আগে লিভারপুল ছেড়ে বিশ্রামে যান ক্লপ। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে রেড বুলের গ্লোবাল সকার প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন। জুলিয়ান নাগেলসমান দায়িত্ব ছাড়ার পর তাকে জার্মানির কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। তার চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই ক্লপ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কোনো আপসের বিষয় নয়। দলের ফলাফল নিয়ে যত সমালোচনাই হোক, পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন না তিনি।
এদিকে ক্লপের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ জার্মানিকে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ওঠার আগেই প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে বড় কোনো টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি দলটি। জার্মানির কোচ হিসেবে ক্লপের প্রথম ম্যাচ হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নেশনস লিগে।

