
বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার ইতিহাস লিখেছে আর্জেন্টিনা। কখনো ম্যারাডোনার জাদুতে, কখনো মেসির নেতৃত্বে বিশ্বসেরার মুকুট পরেছে তারা। কিন্তু সেই আর্জেন্টিনার জন্য জুলাই মাসের বিশ্বকাপ ফাইনাল যেন বারবার বয়ে এনেছে হতাশা। এবার সেই পুরোনো ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসির দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে জিততে পারলে শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি জুলাইয়ের ফাইনাল নিয়ে দীর্ঘদিনের আক্ষেপও মুছে ফেলবে আর্জেন্টিনা।
বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন। দুই দলের এই লড়াই শুধু একটি ট্রফির জন্য নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লেখারও সুযোগ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮ সালে নিজেদের মাঠে নেদারল্যান্ডসকে পরাজিত করে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে তারা। এরপর ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় শিরোপা আসে। সর্বশেষ ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় লিওনেল মেসির দল।
তবে বিশ্বকাপের ফাইনাল যদি জুলাই মাসে হয়, সেই ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলে না। এই মাসে খেলা তিনটি ফাইনালেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা।
আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ১৯৩০ সালে। ৩০ জুলাই উরুগুয়ের মন্টেভিডিওতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৪-২ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফাইনালেই হতাশ হতে হয়েছিল তাদের।
এরপর ১৯৯০ সালের ৮ জুলাই ইতালির রোমে আরেকটি জুলাই ফাইনালে নামে আর্জেন্টিনা। এবার প্রতিপক্ষ ছিল পশ্চিম জার্মানি। দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বাধীন দলটি কঠিন লড়াইয়ের পর আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায়।
জুলাইয়ের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সাম্প্রতিক হতাশা আসে ২০১৪ সালে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের ১৩ জুলাইয়ের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে খেলেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সেই পরাজয় মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আক্ষেপ হয়ে আছে।
এবার সেই জুলাই মাসেই আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। তবে আগের তিনবারের মতো এবারও কি একই ভাগ্য অপেক্ষা করছে, নাকি মেসির হাত ধরে তৈরি হবে নতুন ইতিহাস, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে আর্জেন্টিনা শুধু টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে না, একই সঙ্গে জুলাই মাসে বিশ্বকাপ ফাইনাল না জেতার দীর্ঘ ইতিহাসও বদলে দেবে।
সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সামনে তাই রয়েছে আরেকটি বিরল সুযোগ। বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার পাশাপাশি নিজের দেশের জন্য জুলাইয়ের ফাইনালের দুঃসহ স্মৃতিও মুছে দিতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

