উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাজশাহীতে রাকাব-এসইসিপি কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে রাকাব-এসইসিপি কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) স্মল এন্টারপ্রাইজেস ক্রেডিট প্রজেক্টে (এসইসিপি) কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণ, বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড় এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে এসইসিপির ইউএফও মোহাম্মদ রেজাউল আলম বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পটিতে বর্তমানে ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় দুই যুগ ধরে কর্মরত রয়েছেন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জামানত ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজকীয় নরওয়ে সরকারের এককালীন অনুদানে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়।

তিনি দাবি করেন, প্রকল্পটি সফলভাবে পরিচালিত হয়ে প্রায় ৮০ হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ভূমিকা রেখেছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০০৭ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাফল্যের কারণে পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাকরিতে যোগদানের পর থেকে একই গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও ৫ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকার ঘোষিত বিভিন্ন আর্থিক সুবিধাও তারা পাননি বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

তাদের দাবি, প্রকল্পের নিজস্ব আয় থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা সম্ভব। ফলে প্রকল্পটি রাকাবের সঙ্গে আত্মীকরণ করা হলেও সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি জনবলসহ রাকাবের সঙ্গে আত্মীকরণ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে ইনক্রিমেন্ট ও প্রভিডেন্ট ফান্ড কার্যকর, সরকার ঘোষিত বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান, উচ্চতর গ্রেডে উন্নীতকরণ, পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের অপসারণও দাবি করেন তারা।

বক্তারা জানান, বর্তমানে তারা কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ সালাহ উদ্দিন গাজী বলেন, কর্মীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন, যা এখনো পাওয়া যায়নি।

তাঁর অপসারণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি রাকাবের কর্মকর্তা। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে তিনি ব্যাংকে ফিরে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read more — অর্থনীতি
Home