উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

বাজারে চিনির সংকট

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
বাজারে চিনির সংকট

‘চিনি নেই। কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা বাজারে আসেন না। তাই সহজে চিনি পাই না। খোলা চিনি সামান্য পেলেও দাম বেশি। তাই এক কেজি চিনি ১২০ টাকার কমে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। সয়াবিন তেলের সরবরাহও কমে গেছে। আটার দামও বেড়ে গেছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় লাভও কম হচ্ছে।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের দীপক স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. দীপক এভাবেই নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর দিন অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও একই তথ্য জানান।

তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে লাভ নেই। গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে কোনো জিনিসের দাম কমবে না। বরং সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম আরও বাড়বে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ অন্য বাজারেও দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদির দোকানে প্যাকেটজাত চিনি নেই। যার নির্ধারিত মূল্য ১১০ টাকা কেজি। খোলা চিনিও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকান ঘুরে দু-এক দোকানে পাওয়া গেলেও দাম বেশি, কেজি ১২০ টাকা। যার নির্ধারিত মূল্য ১০৫ টাকা। তারা বলছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা বাজারে আসছেন না। তাই কোনো চিনি নেই।

এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের ইয়াসিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইয়াসিন আলী গণমাধ্যমকে বলেন, চিনি নেই এক সপ্তাহ ধরে। খোলাটা মাঝে মাঝে সামান্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেশি দামে কেনা। এ জন্য ১২০ টাকার কমে বিক্রি সম্ভব না। টাউন হল বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও জানান, বেশি দামে কেনা। পরিবহন ভাড়াসহ ১১৩ টাকা কেজি কেনা, ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের তুলনায় সয়াবিন তেলের সরবরাহও কমে গেছে। আটার দামও বেড়ে গেছে।

বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার খুচরা বিক্রেতারাও জানান, বসুন্ধরাসহ সব কোম্পানি আটার দাম বাড়িয়েছে। এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের ফিউচার হাউজিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হোসেন  বলেন, ‘কয়েক দিন হলো কোম্পানি আটার দাম বাড়িয়েছে। আগে ২ কেজি আটার দাম ১৩০ টাকা ছিল। বর্তমানে তা ১৪০ টাকা হয়ে গেছে। কোম্পানি থেকে বাড়তি দামের আটা দিয়ে গেছে। আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করি? চিনিও পাওয়া যাচ্ছে না।’

চিনির ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মেসার্স সিদ্দিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে চিনির টান ধরেছে। কোম্পানি থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ২ দিন ধরে দাম বেড়ে গেছে। ৫০ কেজির বস্তা ৫ হাজার ৩০০ টাকা বা ১০৬ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে বাটারফ্লাই ছাড়া কারও চিনি নেই। তেলের সরবরাহও কমতে শুরু করেছে। আটার দাম বেড়ে গেছে।

তার কথার সত্যতা জানতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক পরিচালক বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, গ্যাসের সংকটের প্রভাব নিত্যপণ্যে পড়তে শুরু করেছে। উৎপাদন কম হওয়ায় মিল থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। খরচসহ মিল থেকে চিনির দাম পড়ছে ১০৩ টাকা। সবাই চান বাজার ধরে রাখতে। খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাই বাড়তি দাম ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়ছে। সরবরাহ বাড়াতে হবে। তা না হলে সব পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। অনেক দিন বাজার স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে মিলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

পে-স্কেল ঘোষণার পর দিন গতকাল বাজারে অন্যান্য পণ্যও চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ থাকে না। সবকিছুর উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে। এ ব্যাপারে টাউন হল বাজারের সোনালি ব্রয়লার হাউজের মুরগি বিক্রেতা শাকিল আহমেদ ও কারওয়ান বাজারের ফারুক ব্রয়লার হাউসের মো. ফারুক আহমেদ  বলেন, দেশে বহু দিন ধরে ঠিকমতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। মিলকারখানা বন্ধ থাকছে। তার প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বেতন বাড়ালেও এভাবে গ্যাস বিদ্যুতের জন্য হাহাকার চলতে থাকলে কোনো কিছুর দাম কমবে না, বরং সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবকিছুর দাম আরও বাড়বে।

এদিকে সবজির বাজারেও দেখা গেছে, সবকিছু আগের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ১০০ থেকে ১৪০ টাকার কমে মিলছে না বেগুন। শিমের কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ২০০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০, শসা ৬০ থেকে ১০০, কচুর লতি ও বরবটি ১০০ থেকে ১২০, গাজর ৮০ থেকে ১২০, ঝিঙে, ধুন্দুল ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। তবে কচুরমুখী, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৮০ টাকা ও কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম, মাংস ও মাছ

আগের মতোই বাজারে পর্যাপ্ত ডিম, মুরগি, মাছের সরবরাহ রয়েছে। তারপরও গতকাল বিভিন্ন বাজারে ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগির কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

ইলিশ মাছের ভরা মৌসুম চললেও কমেনি দাম। আগের মতো গতকালও ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জাটকার কেজিও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

গতকালও বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২২০-২৩০ টাকা এবং বস্তাজাত খোলা পোলাওয়ের চাল ২০০ টাকা কেজি, কোম্পানিভেদে মিনিকেট চাল ৬৫ থেকে ৮৫ টাকা, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। আগের মতো পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৮০ ও আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকা, মসুর ডাল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা ও ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়।

Read more — অর্থনীতি
Home