
বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ যখন বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেই উন্মাদনার রঙ লেগেছে রাজশাহীর রাজপথেও। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি আর শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহরে আজ শুক্রবার বিকেলে নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ফুটবল ফ্যানস অব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ গ্র্যান্ড র্যালি’। বিকেলে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন মোড় থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেন বিভিন্ন দলের সমর্থক, ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ-যুবক ও সাধারণ মানুষ।
র্যালিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার সমারোহ দেখা যায়। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সাজিয়ে অংশ নেন এ আয়োজনে। বিশ্বকাপের থিম সং, সমর্থকদের স্লোগান আর উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে পুরো নগরী যেন রূপ নেয় এক ক্ষুদ্র ফুটবল কার্নিভালে।
আয়োজকরা জানান, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও বন্ধনেরও মাধ্যম। ভিন্ন দেশের সমর্থক হলেও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন।
র্যালিতে অংশ নেওয়া ফুটবলপ্রেমী জুবায়ের রশীদ বলেন, 'রাজশাহীতে ফুটবলপ্রেমীদের এমন মিলনমেলা সত্যিই আনন্দের। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।'
খেলাধুলাকে সামাজিক সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সংস্কৃতির বাহক হিসেবে উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রাকিন রায়হান রবীন বলেন, 'ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজশাহীর তরুণদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত ইতিবাচক। খেলাধুলা মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে এবং যুবসমাজকে সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের দিকে এগিয়ে নেয়।'
প্রাইভেটকার নিয়ে র্যালিতে অংশ নেওয়া সায়েম সরকার বলেন, 'বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে অন্যরকম উচ্ছ্বাস কাজ করে। সেই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আমরা এই র্যালিতে অংশ নিয়েছি। বিভিন্ন দলের সমর্থকরা একসঙ্গে আনন্দ উদযাপন করেছেন, যা সত্যিই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।'
র্যালি চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে রঙিন পতাকা ও সুসজ্জিত যানবাহনের বহর উপভোগ করেন। কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান অংশগ্রহণকারীদের। এতে পুরো আয়োজনজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

