
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকরভাবে করারোপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, প্রস্তাবিত তামাক কর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব দেশের স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে তামাক পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর। তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় সংসদসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, 'জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধি করা গেলে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও অগ্রগতি সম্ভব হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার এখনও অনেক বেশি।'
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশে বর্তমানে চার স্তরের সিগারেট বাজারজাত হচ্ছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের। সহজলভ্য হওয়ায় এসব সিগারেট তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দ্রুত আসক্তি তৈরি করছে। একইসঙ্গে জর্দা, গুল ও বিড়ির সহজপ্রাপ্যতাও তামাক ব্যবহারের হার বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তারা।

