
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারিজনিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, বিগত পাঁচ বছর ধরে ক্যাম্পেইন না হওয়া, গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের নানা দাবিতে টিকা কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই দেশে হামের আউটব্রেক (প্রাদুর্ভাব) হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইপিআইতে ক্যাম্পেইনের জন্য আসা টিকা দিয়ে যদি তাৎক্ষণিক ক্যাম্পেইন করা যেত তাহলে হয়তো আউটব্রেক থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিকা সংশ্লিষ্ট একাধিক ইপিআই কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, অন্যান্য টিকার বিভিন্ন সময়ে ঘাটতি থাকলেও হামের এমআর টিকার কখনও ঘাটতি হয়নি। প্রতি তিন মাস অন্তর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন জেলায় টিকা সরবরাহ করা হতো। অনেক জেলায় আগে পাঠানো টিকা অবশিষ্ট থাকার কারণে তারা গত তিন মাসে তেমন চাহিদা দেয়নি। এমনকি বর্তমানে চলমান ক্যাম্পেইনের টিকাও গত সেপ্টেম্বরে ইপিআইয়ের কেন্দ্রীয় গুদামে এসে পৌঁছে। টিকা আসার পরপরই একাধিকবার ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটা বিভিন্ন কারণে আলোর মুখ দেখেনি। এসব কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, পূর্বঘোষিত টাইফয়েডের টিকা ক্যাম্পেইন, স্বাস্থ্য সহকারীদের ডিসেম্বর মাসজুড়ে আন্দোলন এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে ক্যাম্পেইনের তারিখ বারবার পিছিয়ে যায়।
ইউনিসেফের মতে, হামের বিস্তার বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশুর টিকা গ্রহণ না করা। গত কয়েক বছর ধরে তৈরি হওয়া এই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতিই সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া, অভিভাবকদের মধ্যে টিকা নিয়ে ভুল তথ্য বিরাজ করায় টিকাদানের হার কমেছে এবং হামের বিস্তার সহজ হয়েছে বলে দাবি ইউনিসেফের।

