
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রচিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে রাজধানীতে এক জমকালো মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ।
বইটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষায় সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি, যাতে তা আইনি কাঠামোর আওতায় আনা যায়। একই সঙ্গে বইটিকে আরও সহজবোধ্য করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন হয়নি। নকলসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষা তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি শিক্ষকদের মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
লেখক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার সংস্কারে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সার্বজনীন শিক্ষার পাশাপাশি বুনিয়াদি শিক্ষার ভিত্তি আরও শক্ত করার ওপর জোর দেন।
সাহিত্যিক ও কলামিস্ট আনিসুল হক মন্তব্য করেন, “এই বইটি থেকে পাঠকরা জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বোধের নানা দিক সম্পর্কে সমৃদ্ধ হতে পারবেন।”
লেখক ও বিশ্লেষক আব্দুন নূর তুষার বলেন, “শিক্ষা শুধু নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীল ও মানবিক হওয়া প্রয়োজন, যা একটি মুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক।”
সরকারের তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বইটি দেশের সর্বস্তরের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে দিকনির্দেশনামূলক ভূমিকা রাখবে।
লেখক ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, এবং বইটিতে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে বইটিকে আরও সহজীকরণে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের নির্বাহী মজুমদার বিপ্লব উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। সভাপতির বক্তব্যে ড. মাহবুব উল্লাহ শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

