উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি চূড়ান্তে লাগতে পারে ৬ মাস

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন
বিদেশ ডেস্ক ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি চূড়ান্তে লাগতে পারে ৬ মাস

উপসাগরীয় আরব ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কিছু নেতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি হতে অন্তত ছয় মাস লাগবে। এই সময়ের জন্য উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো উচিত বলে তারা মনে করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা বলেন, নেতারা জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অবিলম্বে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের সতর্কবার্তা—আগামী মাসের মধ্যে এটি না খুললে বিশ্বে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। তাঁরা আরও বলেন, যুদ্ধ এর চেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এই খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, উপাসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বাস করে যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পরও তাদের সেই লক্ষ্য বদলায়নি। তাই তাঁরা মনে করেন, শান্তিচুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত।

তবু উপসাগরীয় নেতারা নতুন করে যুদ্ধের পক্ষে নন এবং তাঁরা চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাক। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন সরকারের মুখপাত্ররা ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেননি। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ এপ্রিলের একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে তারা ‘শর্তহীনভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার’ দাবি জানিয়েছিল।

আমিরাতের সেই বিবৃতিতে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ড্রোন, সামরিক শক্তি এবং তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হুমকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানও পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ সৌদি আরব, আমিরাত ও কাতারের শহর, বন্দর এবং তেল স্থাপনায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তা এখনো ৩৫ শতাংশ বেশি।

ব্রিটিশ থিংকট্যাংক চ্যাথাম হাউসের সদস্য ও ইরানে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রব ম্যাকিয়ার ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুব দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাজারে এর প্রভাবের কথা ভেবে আশাবাদী হতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘মূল বিষয় শুধু আলোচনা সফল হওয়া নয়, বরং আগামী দিনগুলোতে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়া ঠেকানো যাবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। এটি সম্ভব হলেও ইরানের ভেতরে অনেকে হয়তো আবারও মিসাইল হামলার জন্য মুখিয়ে আছে।’

সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা স্বাভাবিকভাবে তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অ্যালুমিনিয়াম এবং সার রপ্তানি করতে পারছে না। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর কথা ভাবছে। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার শেষ হবে। এটি হলে শান্তি আলোচনার জন্য তারা বাড়তি সময় পাবে।

তবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো বা স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ চায়। এ ছাড়া পরমাণু ও মিসাইল কর্মসূচি, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।

ম্যাকিয়ার বলেন, পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতার সুযোগ আছে, যেখানে ইরান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিদর্শকদের অনুমতি দেবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছেড়ে দিতে পারে এবং তেল-বাণিজ্যে ছাড় দিতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অনেক বেশি জটিল হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। তবে সেখানে হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি। কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে আরও সহজ করতে পারে।

 

Read more — আন্তর্জাতিক
Home