
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৫টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে ছেলে শিশু ৪ জন, মেয়ে শিশু ৩ জন, মহিলা ১১ জন, পুরুষ ৮ জন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস বুধবার বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে ৩ নম্বর ঘাটে। বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলে নিখোঁজ বাসযাত্রীদের স্বজনেরা আহাজারি করছিলেন। সেখানে মজনু মিয়া নামের এক ব্যক্তি তাঁর ছেলে উজ্জলের অপেক্ষা করছিলেন। তখনো নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ডুবুরি দলের সদস্যরা পদ্মার ৩০ ফুট পানির নিচ থেকে উজ্জলের লাশ উদ্ধার করে কুলে নিয়ে আসেন। এ সময় শোকাহত স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
সর্বশেষ লাশ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম উজ্জল হোসেন (৩৫)। তিনি একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ঝাও গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে।
মজনু মিয়া জানান, উজ্জলের সন্ধান পেতে বুধবার রাত থেকেই তিনি ও তাঁর স্বজনেরা ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন।
মজনু মিয়া বলেন, ঈদে আমার ছেলে বাড়ি আসে। আমাদের সঙ্গে ঈদ করে বুধবার বিকেলে ঢাকায় ফিরছিল। তখনো জানতাম না, আমার ছেলে ওই গাড়ির ভেতরে ছিল। রাতে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়ায় সন্দেহ হলে আমরা পরিবারের সদস্যরা ঘাটে চলে আসি। রাতভর ছেলের খোঁজে কাটিয়ে দিই এখানে। এরপর সকালে আমার ছেলের লাশ পানি থেকে উদ্ধার করে ডুবুরি দল।

