উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলের ১০০ ফুট গভীর বাঙ্কারেও মানুষ মারা যাচ্ছে

মর্মস্পর্শী বিবরণ দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী ভারতীয় সাংবাদিক
উত্তরা প্রতিদিন বিদেশ ডেস্ক ৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ণ
 ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলের ১০০ ফুট গভীর বাঙ্কারেও মানুষ মারা যাচ্ছে

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ইসরায়েলি ভূখণ্ডে উপস্থিত এক ভারতীয় সাংবাদিক জানিয়েছেন, ১০০ ফুট গভীর আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও প্রাণহানি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও জানান, সতর্কবার্তার সাইরেন প্রায়ই অকেজো ছিল এবং মার্কিন-ইসরায়েলি মদতপুষ্ট এই যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মৃতদেহের ফুটেজ ধারণ ও হাসপাতালে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

 

ভারতীয় সাংবাদিক ব্রিজ মোহন ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ পরিস্থিতির একটি মর্মস্পর্শী বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এমনকি প্রায় ১০০ ফুট গভীর পর্যন্ত তৈরি করা কিছু আশ্রয়কেন্দ্রও সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

‘‘এমনকি প্রায় ১০০ ফুট গভীর পর্যন্ত তৈরি কিছু আশ্রয়কেন্দ্রও হতাহত ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এমন খবরও আছে যে ওই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ভেতরে মানুষ মারা গেছে।’’

 

তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কঠোর বিধিনিষেধের ওপর আলোকপাত করেছেন। তার ভাষ্যমতে, কর্মকর্তারা হাসপাতাল  গুলোতে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করেছেন এবং মৃতদেহগুলোর ছবি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। মোহন যোগ করেছেন যে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

 

তিনি আগাম সতর্কবার্তার ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তুলেছেন। কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজেনি এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সময়মতো আসন্ন বিপদ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।মোহন সেখানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, কিছু জায়গায় বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কেউ বেঁচে নেই।

 

তিনি বলেন, ‘‘যখন বোমা বিস্ফোরিত হয়, তখন সে দেখে না যে সেটি ভারতীয় না ইসরায়েলি। আপনি হয়তো ডানে-বামে গুলি থেকে বেঁচে যেতে পারেন, কিন্তু মিসাইল থেকে বাঁচবেন না। তারা বলে বাঙ্কারগুলো খুব মজবুত। আমরা এমন ১০০ ফুট গভীর বাঙ্কার দেখেছি যেখানে মানুষ মারা গেছে, কিন্তু আপনাদের সত্যটা জানানো হচ্ছে না। সরকার কিছু বলছে না।

 

‘‘আপনি সেখানে মৃতদেহের ফুটেজ নিতে পারবেন না। হাসপাতালে যেতে পারবেন না। কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা জানতেই পারি না জায়গাটি কোথায়। পরদিন সকালে যখন আমরা বা অন্য সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছাই, তখন তারা বলে মাত্র একজন মারা গেছে। কিন্তু স্থানীয় ইসরায়েলিরা, যারা হিমাচল থেকে সেখানে ঘুরতে গিয়েছিল, তারা জানিয়েছে সেখানে চারটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং কেউ জীবিত নেই।’’

 

তিনি আরও বলেন, এটি প্রমাণ করে যে সেখানে বড় কোনো ঘটনা ঘটেছে।মোহন উন্নত প্রযুক্তির দাবির বিপরীতে বর্তমান ঝুঁকির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ভোর ৫টার একটি ঘটনার কথা বর্ণনা করে বলেন, তখন কোনো অ্যালার্ম বাজেনি, শুধু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল।

 

‘‘আমি আপনাকে সত্যি বলছি, তারা যে প্রযুক্তির বড়াই করে, সেই প্রযুক্তি অনুযায়ী অ্যালার্ম বাজার কথা ছিল। কিন্তু ভোর ৫টার ওই ঘটনার কথা যদি বলি, তখন কোনো অ্যালার্মই বাজেনি। শুধু 'বুম বুম' শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমরা বুঝতে পারলাম কোনো অ্যালার্ম ছাড়াই হামলা হয়েছে।’’‘‘সুতরাং, প্রযুক্তি ব্যর্থ হয়েছে।’’

 

Read more — আন্তর্জাতিক
Home