উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা ইইউ পর্যবেক্ষক দলের

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা ইইউ পর্যবেক্ষক দলের

বাংলাদেশে একটি নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেছেন, সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক এবং এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইজাবস এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে এবং গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে তাদের ধারণা।

নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইভার্স ইজাবস বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বিষয়। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে সব সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ মিশনের বিশেষ নজরে থাকবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এবং প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও সামগ্রিক প্রত্যাশা ও পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।

প্রাক-নির্বাচনী প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইভার্স ইজাবস বলেন, এসব বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে বিশ্বের সব গণতন্ত্রের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইভার্স ইজাবস বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকরা ইউরোপের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী।

Read more — জাতীয়
Home