উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

নির্বাচনী ইশতেহারে জ্বালানি খাত সংস্কারের ১৩ দফা দাবি ক্যাব যুব সংসদের

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী ইশতেহারে জ্বালানি খাত সংস্কারের ১৩ দফা দাবি ক্যাব যুব সংসদের

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য জ্বালানি খাত সংস্কারে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর অঙ্গসংগঠন ‘ক্যাব যুব সংসদ’।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাব যুব সংসদের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম, অরিত্র রুদ্রধার, নওশীন জাহান তাকিয়া, সাবাত মোস্তফা প্রথন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাফকাতুল আরেফিন।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তালহা বিন ইমরান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব খান সামি।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা থেকে জ্বালানি খাতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

ক্যাব যুব সংসদ জানায়, জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিকীকরণের পরিবর্তে সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ‘লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা’ বন্ধ করে জনবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ।

 

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি হলো—

 

১. বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত থেকে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ কস্ট প্লাস নয় কস্টভিত্তক নিশ্চিত করা।

২. জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি গড়ে আগামী সরকারের ৫ বছর মেয়াদে কমপক্ষে ৫% কমানো নিশ্চিত করা।

৩. সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধি দ্বারা ওই ৫ বছরে গড়ে ১৫% বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং ছোট শিল্প হিসেবে এ-বিদ্যুৎ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া।

৪. এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ৫ বছরের জন্য রহিত করা এবং কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা।

৫. গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা।

৬. বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা, গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিশ্চিত করা।

৭. আদানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করানো এবং আদানির বিদ্যুৎ আমদানি রদ নিশ্চিত করা।

৮. ক্যাবের দায়েরকৃত স্পিডি অ্যাক্ট ২০১০ রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৪ সংক্রান্ত রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি ও লাইসেন্স বাতিলসহ সব ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা।

৯. ওইসব চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে আদায় নিশ্চিত করা।

১০. জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার নিশ্চিত করা।

১১. (ক) লুণ্ঠনমূলক ‘ব্যয় ও মুনাফা’ মুক্ত করে বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে বিদ্যমান মূল্যহার কমানো এবং (খ) এলপিজি’র বাজার ওলিগোপলি থেকে মুক্ত করার জন্য এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর কর্তৃত্ব রদ করা, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির লাইসেন্স প্রদান করা, সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও ওয়েল রিফাইনারি করা এবং সরকারি মালিকানায় এলপিজির ৫০% আমদানি ও স্টোরেজক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

১২. বিইআরসি’র জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসি’র বিরুদ্ধে আনীত ক্যাবের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা, ক্যাব প্রস্তাবিত বিইআরসি আইন সংশোধনী প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা ও সেই সঙ্গে ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি, ২০২৪ এর আলোকে গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং

১৩. আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা সুরক্ষায় প্রণীত জ্বালানি সনদ চুক্তি ১৯৯২ স্বাক্ষরে সরকারকে বিরত রাখা।

Read more — জাতীয়
Home