
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘নিজের চরকায় তেল দেওয়ার’ পরামর্শ দিয়ে কঠোর তিরস্কার করেছে ভারত। দিল্লিতে কারাবন্দী সাবেক ছাত্রনেতা উমর খালিদকে সংহতি জানিয়ে একটি ব্যক্তিগত চিরকুট পাঠানোয় মামদানির ওপর চটেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত (সাপ্তাহিক) সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের উচিত অন্য গণতান্ত্রিক দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো।
কী লিখেছিলেন মেয়র মামদানি
ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি গত ১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেন। শপথ নেওয়ার কয়েক দিন পরেই উমর খালিদের উদ্দেশ্যে তাঁর লেখা একটি হাতে লেখা চিরকুট প্রকাশ্যে আসে।
মামদানি ওই চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘প্রিয় উমর, তিক্ততা নিয়ে তোমার সেই কথাগুলো আমি প্রায়ই ভাবি—কীভাবে নিজেকে এর মধ্যে হারিয়ে না ফেলে টিকে থাকতে হয়। তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে খুব ভালো লাগল। আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।’
চিরকুটটি গত বছরের ডিসেম্বরে উমর খালিদের বাবা-মা যখন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, তখন তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মামদানি। গত সপ্তাহে উমরের বান্ধবী বানোজ্যোৎস্না লাহিড়ী এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো পদে আসীন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সংস্কার বা পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ করা শোভন নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি জনপ্রতিনিধিরা অন্য দেশের বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করবেন। অন্যের বিষয়ে মন্তব্য করার চেয়ে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বের দিকে মনোনিবেশ করাই তাঁদের জন্য মঙ্গলজনক হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে উমর খালিদ গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি (২০২৬) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
দুই অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করার যুক্তি হিসেবে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও এন ভি আনজারিয়ার বেঞ্চ বলেন, এই দাঙ্গার ষড়যন্ত্রে তাঁরা ‘মতাদর্শিক পরিচালক’ ছিলেন। তাঁরা মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সমান সুবিধা পেতে পারেন না।
তবে একই মামলায় অভিযুক্ত গুলফিশা ফাতিমাসহ আরও পাঁচজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক নেতা জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার আগে থেকেই উমর খালিদের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে তিনি উমর খালিদের ডায়েরি থেকেও পাঠ করেছিলেন। তবে ভারতের দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ।

