
‘আজিমপুরে ১৪টি কবরের মধ্যে ১৩টি কবর পাকা হয়ে গেছে। শুধু আমার ছেলের কবরটাই এখনো কাঁচা পইড়া রইছে। আমি তো মা, প্রতি শুক্রবার কবর জিয়ারতে গিয়ে এই দৃশ্য দেখে বুকটা ফেটে যায়।’ –কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইউসুফের মা। দুই বছর ধরে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরেও ছেলের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান না পেয়ে এমন আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ ইউসুফের মা অভিযোগ করেন, দুই বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা শুধু অবহেলা আর লাঞ্ছনা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কোথাও ঢুকতে দেয় না, গেটেই দূরে দাঁড় করিয়ে দেয়। আমার একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছি। এখন আমাকে প্রতিদিন হুমকি দেওয়া হয়– মেরে ফেলবে, কেটে ফেলবে। ঠিকানা নেই, এলাকা ছাড়তে হয়েছে। ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছি না। এর জন্যই কি আমার সন্তান জীবন দিয়েছিল?’
সংবাদ সম্মেলনে যাত্রাবাড়ীতে শহীদ শাওন তালুকদারের বাবা তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪-এর জুলাইয়ে আমার ছেলে শহীদ হওয়ার পর ২০২৬ সাল চলে আসছে, অথচ এখনো আমার ছেলের নাম শহীদের তালিকায় ওঠেনি। ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর মোড়ে তিনটি গুলি লেগে আমার ছেলে শহীদ হয়। জানুয়ারির ২১ তারিখে আজিমপুরে সব কাগজ জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো এমআইএস হয়নি, গেজেট হয়নি। শুধু বলা হয় প্রক্রিয়া বন্ধ।’
তিনি জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন তারা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের সম্পাদক তামিম খান বলেন, সরকার শহীদ ও আহতদের তালিকাকরণ ও সেবা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিলেও তা সঠিকভাবে পালন করা হয়নি। তিনি জানান, ঢাকা জেলায় ৩২৯ জন শহীদ ও প্রথম ধাপে ১,৪৮৫ জন আহতের তালিকা নিশ্চিত করা হলেও গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এমআইএস ও তালিকাকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তামিম খান অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেক আহত যোদ্ধার ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই পুলিশ সদস্যদের কাছে, যারা নিজেরাই আন্দোলনে গুলি চালিয়েছিল। এটা চরম অমানবিক ও লজ্জাজনক।’ সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, গেজেট সম্পন্ন করা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

