
আফ্রিকাতে একটি অবিস্মরণীয় পরিবর্তন ঘটছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। পৃথিবীর গভীরে থাকা শক্তি আফ্রিকার মাটিকে ক্রমশ বিভক্ত করে দিচ্ছে এবং একটি নতুন মহাসাগর তৈরির পথ তৈরি করছে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পৃথিবীর পৃষ্ঠে বিশাল ফাটল হিসেবে পরিচিত পূর্ব আফ্রিকান রিফ্ট। দক্ষিণে মোজাম্বিক থেকে উত্তরে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব আফ্রিকান রিফ্ট পৃথিবীর একমাত্র স্থান যেখানে মহাদেশীয় ভূত্বক ভেঙে অবশেষে মহাসাগরীয় ভূত্বক তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই অঞ্চলের টেকটোনিক প্লেট তথা আফ্রিকান এবং সোমালি ভূখণ্ড দুইটি প্রতি বছর প্রায় ০.৮ সেন্টিমিটার হারে পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আফ্রিকান ফাটলের এই বিস্তার এমন একটি প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে, যা প্রায় ১০লাখ বছরের মধ্যে বা সম্ভবত তারও আগে একটি নতুন মহাসাগর সৃষ্টি করতে পারে। ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে ফাটলটি ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং ১০ মিটার গভীর।
২০০৫ সালে এই ফাটলে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়, যখন অল্প সময়ের মধ্যে এখানে ৪শ’ ২০টিরও বেশি ভূমিকম্প ঘটে এবং আরও একটি বিশাল ফাটল তৈরি হয়। তুলান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানী সিন্থিয়া এবিঙ্গার বলেছেন যে ভূমিকম্প বা ভূঅনুরণের মতো ঘটনা প্রক্রিয়াটিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
এই নতুন মহাসাগরীয় অববাহিকার গঠন আফ্রিকার ভূ‚গোলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাবে। জাম্বিয়া এবং উগান্ডার মতো ভূ-সীমান্তবেষ্টিত দেশগুলি উপকূলরেখা অর্জন করবে, যা বাণিজ্যের নতুন সুযোগ প্রদান করবে এবং তাদের অর্থনীতি পুনর্গঠন করবে। একই সময়ে, নতুন এটি সামুদ্রিক আবাসস্থল গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তর ঘটাবে।
পূর্ব আফ্রিকান ফাটল পৃথিবীর গতিশীল প্রকৃতির একটি শক্তিশালী স্মারক, যেখানে একটি নতুন মহাসাগরের সৃষ্টি এবং এর ভূতাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত প্রভাবগুলি আফ্রিকা মহাদেশ এবং এর ভবিষ্যতের উপর একটি স্থায়ী চিহ্ন রেখে যাবে।

