
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাইকে পাখির ডাক বাজিয়ে অবৈধভাবে পাখি শিকার করার সময় দুই শিকারিকে আটক করেছে উপকূলীয় বন বিভাগ। পরে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে তাদের নোয়াখালী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে উপকূলীয় বন বিভাগের একটি বিশেষ দল সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪নং বারগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।
জানা গেছে, মাইকে পাখির ডাক বাজিয়ে ডাহুক, বালি হাঁসসহ বিভিন্ন পাখিকে প্রলুব্ধ করে জালের ফাঁদে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন আব্দুল হান্নান ও সাকিব। খবর পেয়ে বন বিভাগের টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাখিসহ সরঞ্জামাদি জব্দ করে। অভিযানে দুটি বালি হাঁস, পাখি ধরার জাল ও সাউন্ড সিস্টেম জব্দ করা হয়, যা ব্যবহার করে মাইকে পাখির ডাক বাজিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার মোবাইল কোর্টে, বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২–এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ।
কারাগারে প্রেরণকৃত ব্যক্তিরা হলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪নং বারগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের তবু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল হান্নান (৫২) ও ফয়েজের ছেলে মো. সাকিব (২০)।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, বন্যপ্রাণি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাখি হত্যা বা আটকানো একটি গুরুতর অপরাধ। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাখি শিকার কেবল পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে না, বরং জীববৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আইন সবার জন্য সমান। প্রকৃতিকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। আসামিদের নোয়াখালী কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এমন অবৈধ কার্যক্রম রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উপকূলীয় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল, স্থানীয় এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

