
অ্যাপ ছাড়া সবই যেন অচল এখন। একটু ভেবে দেখলেই বুঝবেন, অ্যাপ ছাড়া দিন কাটানো কঠিন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অনেক অ্যাপ ভুয়াভাবে তৈরি হয়েছে। হুট করে এসব অ্যাপ ইনস্টলে ঝুঁকি বাড়ছে সব ধরনের ডিভাইসে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে লাখো ভুয়া অ্যাপ। বিভ্রান্তকর অনেক অ্যাপ দেখতে প্রকৃত অ্যাপের মতোই।
ওই সব অ্যাপ মোবাইলে ইনস্টল করে ঝুঁকির পথে পা বাড়িয়েছেন অনেকে। মূলত প্রতারণার উদ্দেশ্য সামনে রেখে এমন অ্যাপ তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় বিশেষ সব প্ল্যাটফর্মে।
কীভাবে চিনবেন
সাধারণভাবে ফেক থার্ড পার্টি অ্যাপ বা ভুয়া অ্যাপ কীভাবে চিনবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন আসবেই। প্রথমেই যে অ্যাপ ডাউনলোড করতে চাইছেন বা প্রয়োজন, তার ডেভেলপারের নাম আগেই যাচাই করে নিতে হবে।
অনেক সময় কোনো অ্যাপ সার্চ করলে একই নামে একাধিক অ্যাপ দৃশ্যমান হয়। সে ক্ষেত্রে অ্যাপের নাম ও বিশেষ তথ্য (ডেসক্রিপশন) ঠিকঠাক দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
ডাউনলোডের আগে যা করবেন
অ্যাপল অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোর থেকে যে কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগে তার রিভিউ, রেটিং ও ডাউনলোড কাউন্ট মিলিয়ে নিলে সম্ভাব্য ধারণা পাওয়া যাবে।
হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে আলোচনায় নতুন আসা কোন অ্যাপ কবে প্রকাশ পেয়েছে, তার বিষয়ে ধারণা থাকা প্রয়োজন। অ্যাপ ডাউনলোডের আগে অবশ্যই সব ধরনের স্ক্রিনশট যাচাই করতে হবে।
এতে প্রথম ধাপেই সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে ওই অ্যাপ থেকে সরে যেতে হবে।
পারমিশন কেন প্রয়োজন
ঠিক কোন অ্যাপ কী কী পারমিশন চাইছে, তা দেখে প্রাথমিকভাবে ভুয়া অ্যাপ শনাক্ত করা সম্ভব। অনেক অ্যাপ প্রয়োজন ছাড়াই ক্যামেরা, অডিও, লোকেশন, ফোনকল বা অন্য যে কোনো পারমিশন চাইলে তা ভুয়া অ্যাপ হতে পারে। কারণ, ওই সব অ্যাপ সাইবার প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার
গুগল প্লে প্রটেক্টের সহায়তায় অ্যাপ ও ডিভাইসকে সম্ভাব্য ম্যালওয়ারের বিপদ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। এ কারণে প্লে স্টোর অ্যাপের প্রোফাইল আইকনে গিয়ে প্লে প্রটেক্টে ট্যাপ করে নিতে হবে। সেটিংস অপশনে প্লে প্রটেক্ট দিয়ে স্ক্যান করে তবেই ইনস্টল করে অ্যাপ সচল করতে হবে।
ডিভাইসটি ভেরিফাই
চাইলে নিজের ডিভাইসকে ভেরিফাই সার্টিফায়েড করে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। এর আগে গুগল প্লে স্টোরে যেতে হবে। ওপরের ডান দিকে প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করতে হবে। আগে সেটিংস অপশনে গিয়ে নিজের ডিভাইসটি প্লে প্রটেক্ট সার্টিফাইড কিনা, তা পুরোপুরি যাচাই করে নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
ডাউনলোডের আগে অ্যাপ বিষয়ে বিশদ তথ্য ভালোভাবে জেনে নেওয়া অবশ্যক। ব্যাকরণগত বা বানানের ভুল শনাক্ত হলে তা ভুয়া অ্যাপ হতে পারে। বুঝতে হবে, কোনো সুপরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ডেভেলপার এমন ভুল কখনোই করবে না। ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ ডাউনলোডের কারণে নিজের ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অপরাধ চক্রের হাতে। শঙ্কা এখানেই।

