
উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কথাটি বেশি ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে- হাতের পাঁচ আঙুল কখনও সমান হয় না। শুনতে যেমনই লাগুক কথা কিন্তু সত্য। যেমন ধরুন কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের কথা। সেখানে দশ ঘরের দশ সন্তানের সঙ্গে প্রতিদিন আপনাকে দিনের অনেকটা সময় কাটাতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে সকলের মনোভাব, মানসিকতা, আচার-আচরণে পার্থক্য দেখা যায়। এই পার্থক্যই হলো কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সঙ্গে মনোমালিন্যের সুপ্তবীজ। যে কোনো সময় বিভিন্ন কারণে এই বীজ থেকেই অঙ্কুরিত হতে পারে সমস্যার বটবৃক্ষ।
এর পাশাপাশি অফিস পলিটিক্স সে তো রয়েছেই। আপনি চাইলেও অনেক সময় এই সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারবেন না। উল্টো কর্মক্ষেত্রে তখন তৈরি হবে প্রতিকূল পরিবেশ। যে কারণে কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজে প্রত্যাশিত সাফল্য না-ও আসতে পারে। এ ধরনের সহকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিতে হবে কিছু কৌশলী ভূমিকা।
ভুল কথা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করুন
কর্মক্ষেত্রে এমন অনেক সহকর্মীই আছেন যারা সব সময় আধিপত্য বজায় রেখে চলতে চান। এসব মানুষ সব কাজে আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করতে পছন্দ করেন। এ ধরনের সহকর্মীরা অফিস মিটিংয়ে নিজেকে জাহির করতে সচেষ্ট হন। আবার অনেকে আছেন নিজের সিদ্ধান্ত ভালো-মন্দ বিচার না করেই অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চান। তারা অন্যের কথা শোনার চেয়ে নিজের কথা অন্যকে শোনাতে ভালোবাসেন। এ কারণে কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিত্বের সংঘাত দেখা দিতে পারে।
আপনি যদি এ ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে প্রথম কাজ হবে, সহকর্মীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। তারপর খুব শান্তভাবে তার সিদ্ধান্তের ত্রুটিগুলো যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে তার মতামত পুনরায় চাইতে পারেন। পাশাপাশি এর বিপরীতে আপনার বুদ্ধিদীপ্ত আইডিয়াগুলো তাকে বলতে পারেন। দেখবেন ওই ব্যক্তি যুক্তির কাছে হেরে গিয়ে নিজের আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে ভবিষ্যতে নমনীয় হবেন। এতে অফিস মিটিংয়ে আপনার মতো অনেকের কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে।
বুঝাতে চেষ্টা করুন
যারা উচ্চস্বরে কথা বলেন তাদের কাছে অফিস কিংবা বাসা কোনো ব্যাপার না। সব জায়গাতেই তাদের গলার আওয়াজ উঁচু থাকে। অফিসেও এমন অনেক সহকর্মী থাকতে পারেন, যারা ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলেন। আবার অনেকেই আছেন যারা অপ্রয়োজনীয় কথা বলেন। ফলে অফিসের কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। অথচ তার কারণে যে সমস্যা হচ্ছে, তিনি সেটা বুঝতে চান না। এক্ষেত্রে লাঞ্চ আওয়ারে তাকে আলাদা করে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারেন। এসব ব্যাপারে সকলের সামনে কথা না বলাই ভালো। আপনি তাকে বুঝাতে চেষ্টা করুন, অফিসে উচ্চস্বরে কথা বলা ঠিক নয়। এতে সহকর্মীদের কাজে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি অফিস পরিবেশও নষ্ট হয়।
আবার এমন অনেক সহকর্মীর দেখা আপনি পাবেন যারা অফিসের ফোন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। জরুরি প্রয়োজনে আপনার তখন অপেক্ষা না করে উপায় থাকে না। সেক্ষেত্রে আপনি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে সমস্যাগুলো হচ্ছে সে বিষয়ে বলতে পারেন। একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, এ ধরনের সমস্যা সমাধানের সময় তিনি যেন অপমানিত বোধ না করেন সে দিকে দৃষ্টি রাখবেন।
আড্ডাবাজদের ফাঁকি দিন
সাধারনতো প্রায় অফিসেই এমন অনেককেই পাওয়া যায় যারা নিজের কাজ ফেলে যখন-তখন আড্ডায় মেতে ওঠেন। এতে নিজের তো ক্ষতি হয়ই, অফিসের পরিবেশও নষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে যখনই ওই ব্যক্তি আপনার কাছে আসবেন তখনই অধিক ব্যস্ত হয়ে পড়ুন। তাকে বলুন, আপনি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করছেন। সুতরাং অযথা এখন আড্ডা দেওয়া যাবে না। তাতেও কাজ না হলে আপনি তার কথায় মনোযোগ না দিয়ে কাজ করতে থাকুন। এতে আস্তে আস্তে তিনি বুঝে যাবেন যে, আপনি তার কথা পাত্তা দিচ্ছেন না। তখন তিনি আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবেন। তবে কাজ শেষ হলে তার কাছে গিয়ে দুঃখপ্রকাশ করতে ভুলবেন না। তাহলে দেখবেন তিনি আর বিষয়টি মনে রাখবেন না।
সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক হন
সহকর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন এটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে তার কাজের সঙ্গে নিজের কাজের তুলনা করে ভুল সংশোধন করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী সহকর্মীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক রেষারেষির পর্যায়েও চলে যেতে পারে। ফলে আপনার কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তিনি আপনাকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে না-ও দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি সব সময় ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে রাখতে চেষ্টা করুন।
প্রয়োজন না হলে তার সঙ্গে যুক্তিতর্ক করতে যাবেন না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে দুজনের সম্মতিক্রমে আলোচনায় বসে সমাধান করতে চেষ্টা করুন। অযথা সহকর্মীর কাজের মধ্যে নাক গলাতে যাবেন না। তাকে কাজ করার সুযোগ দিন এবং আপনি আপনার কাজ করুন। আরেকটি ব্যাপার স্মরণে রাখতে হবে, এ ধরনের সহকর্মী সম্পর্কে আগ বাড়িয়ে কখনও কোনো মন্তব্য করবেন না। অনেকে হয়তো আপনার কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে, সেক্ষেত্রে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতিদ্বন্দ্বী সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করুন।
বসের সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না
আপনি যেখানে কাজ করেন সেই সেকশনের বস যদি বদমেজাজী হন তাহলে কাজ করা কঠিনই বটে! অনেক বস আছেন যারা কারণে-অকারণে রেগে যান। সেক্ষেত্রে প্রথমে বসের এমন আচরণ করার কারণ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। লক্ষ্য রাখুন বসের কী কী পজিটিভ আর কী কী নেগেটিভ দিক রয়েছে। এগুলো খুঁজে বের করে আপনি বসের মনের অবস্থা বুঝে কাজ করতে পারেন। কখনও তার সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না। বস ভুল করলে তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন এবং যুক্তি দিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বুঝাতে চেষ্টা করুন যে সিদ্ধান্তটি সঠিক নয়। অবশ্যই এ কাজগুলো করার আগে বস খোশমেজাজে আছেন কিনা বুঝে নিন।

