উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার যখন সাধারণ কয়েদি

উত্তরা ডেস্ক ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০৮ অপরাহ্ণ
ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার যখন সাধারণ কয়েদি

একসময় ব্রাজিল ফুটবলের পোস্টার বয়, রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফরোয়ার্ড রবিনহো এখন বন্দি জীবনের এক সাধারণ কয়েদি। ধর্ষণ মামলায় ৯ বছরের সাজা ভোগ করছেন তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের ড. হোসে অগুস্তো সিজার সালগাদো কারাগারে। সেখান থেকেই প্রথমবারের মতো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা।

কারাগারের ভেতর থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবিনহো বলেন, ‘আমি এখানে কোনো বিশেষ সুবিধা পাইনি। আমার খাওয়া, ঘুম, কাজ সবই অন্য বন্দিদের মতো। যখন কাজের সময় থাকে, তখন কাজ করি; আর রবিবারগুলোতে যখন কাজ থাকে না, তখন ফুটবল খেলি। খাবারও সবার মতোই পাই, কখনও আলাদা কিছু দেওয়া হয় না।’

রবিনহোর কারাগারটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘পি২ ট্রেমেমবে’ নামে; যা ব্রাজিলে ‘সেলিব্রেটিদের কারাগার’ হিসেবেও খ্যাত। তবুও রবিনহো দাবি করেন, তিনি সেখানে ‘বিশেষ কেউ’ নন। ‘আমি এখানে কোনো নেতৃত্বে নেই। এখানে নিরাপত্তাকর্মীরাই সব নিয়ন্ত্রণ করেন, আমরা বন্দিরা শুধু নিয়ম মেনে চলি। আমি কখনও কোনো বিবাদে জড়াইনি, এমনকি ফুটবল খেলাতেও নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী সপ্তাহান্তে দেখা করতে আসেন। সন্তানদেরও নিয়ে আসেন। সবচেয়ে বড় ছেলেটা খেলে, ছোট দুজন আসে মায়ের সঙ্গে। আমাদের দেখা-সাক্ষাতও সবার মতোই হয়, কোনো ভিন্নতা নেই।’

এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের একটি অলাভজনক সংস্থা, যারা বন্দিদের পুনর্বাসনে কাজ করে। ভিডিওতে দেখা গেছে, কারাগারের ভেতরের দৃশ্য, বন্দিদের দৈনন্দিন জীবন এবং রবিনহোর সহজ-সরল আচরণ।

রবিনহোর কারাভোগের শুরু ২০২৪ সালের ২১ মার্চ। তার বন্ধু ও সহঅভিযুক্ত রিকার্দো ফালকোও একই মামলায় তিন মাস পর, অর্থাৎ জুনে কারাগারে প্রবেশ করেন।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ইতালির মিলানে এক নাইটক্লাবে এক আলবেনীয় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রবিনহো ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে। সে সময় রবিনহো খেলছিলেন এসি মিলানে। আদালতের দীর্ঘ শুনানি ও একের পর এক ব্যর্থ আপিলের পর ২০২২ সালে ইতালির সুপ্রিম কোর্ট তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। পরে ইতালির সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ব্রাজিলেই তাকে সাজা ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কারাগারে রবিনহোর দৈনন্দিন রুটিন বেশ নিয়মতান্ত্রিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সপ্তাহে এক-দুবার ফুটবল খেলেন, বই পড়েন এবং ইলেকট্রনিকসের প্রাথমিক ক্লাসে অংশ নেন। যা ভবিষ্যতে সাজা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

তবুও রবিনহো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে চলেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি জানি আমি কী করেছি আর কী করিনি। যা বলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। মেয়েটি তখন মাতাল অবস্থায় ছিল এবং বিষয়টি ছিল পারস্পরিক সম্মতির।’

এদিকে মামলার আরেক অভিযুক্ত, রবিনহোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুডনি গোমেজ গত মার্চে রহস্যজনকভাবে মারা যান। ব্রাজিলের সান্তোস শহরের এক ১১ তলা ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়, যা পুলিশ ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে তদন্ত করছে।

একসময় ফুটবল বিশ্বে আলো ঝলমলে ফুটবলার ছিলেন রবিনহো। যিনি একদা পেলে-উত্তর যুগের পর ব্রাজিলের পরবর্তী ‘ম্যাজিকাল ফরোয়ার্ড’ হিসেবে বিবেচিত হতেন। সেই রবিনহো এখন আট বর্গমিটারের একটি ছোট সেলে দিন গুনছেন।

ফুটবলের মাঠ থেকে কারাগারের দেয়াল, রবিনহোর জীবনের এই রূপান্তর যেন এক করুণ বাস্তবতা। খ্যাতি, সম্পদ আর প্রতিভার জোয়ারও নৈতিক পতনের পরিণতি এড়াতে পারেনি।

 

Read more — খেলাধুলা
Home