
গাজায় ফিলিস্তিনিদের এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় রসদের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ধেয়ে আসছে শীতকাল। আসন্ন সেই শীত নিয়ে এরই মধ্যে সতর্কবার্তা জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। ইসরায়েলি হামলাও একেবারে থেমে যায়নি। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৯৩ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া আরও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন। তাদের লাশ গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। তাদেরও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার অন্তত ১৫ লাখ মানুষের এ মুহূর্তে ‘জরুরি সহায়তার প্রয়োজন।’ যুদ্ধবিরতির পর তারা নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িগুলোতে ফিরতে শুরু করেছেন। তারা দেখছেন চারপাশে কেবলই ধ্বংসস্তূপ। খাবার, পানি ও আশ্রয়ের জন্য তাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি নিজের গাজায় নিজ এলাকায় ফিরে এসে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটি অক্ষত ইসরায়েলি সাঁজোয়া যান খুঁজে পেয়েছেন। ওই যানটি ছিল বিস্ফোরকবোঝাই। কিন্তু বিস্ফোরকগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। ফলে ওই যানের পাশেই তাকে এখন অস্থায়ী আশ্রয় গড়ে তুলতে হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণের শহর খান ইউনিসে লাখ লাখ মানুষ ফিরতে শুরু করেছেন। ফিরে এসে অনেকেই দেখছেন তাদের পাড়া-মহল্লা পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোথাও পড়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ, কোথাও পড়ে আছে দলা পাকানো লোহার কাঠামো, কোথাও কোথাও আবার বিস্ফোরিত হতে পারে এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্র পড়ে আছে। সেসব স্থানে একসময় ঘরবাড়ি ছিল।
গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। মিসরের রাজধানী কায়রোতে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা শাসনের জন্য একটি স্বাধীন টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফরের সময় বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বা হামাস, কোনোটিরই যুক্ত থাকা উচিত নয়।
গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৬৮ হাজার ২৮০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় তারা প্রাণ হারান এবং তাদের বেশির ভাগই বেসামরিক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৭৫ জন। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইসরায়েলে চালানো হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন। সে সময় প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে আসা হয়েছিল।
এদিকে ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, শীত আসন্ন এবং গাজায় বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষের জন্য আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সংস্থাটি জানায়, ‘বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়সামগ্রী ও শীতকালীন সরঞ্জাম জর্ডান ও মিসরের ইউএনআরডব্লিউএর গুদামেই পড়ে আছে। কিন্তু সেগুলোকে গাজায় প্রবেশ করানোর অনুমতি পাওয়া যায়নি।’
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরোধিতা বাড়ছে
ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ ইসরায়েলি চান না প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হন। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, নেতানিয়াহু যেন লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে আবারও প্রার্থী হন, আর ৭ শতাংশ এ বিষয়ে অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন।

