
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছে ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম পাচারের দায়ে পাকিস্তানি নাগরিক মুহাম্মদ পালোয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। বিবিসির খবর।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) এই রায় ঘোষণা করা হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আরব সাগরের সোমালিয়ার উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অভিযান পরিচালনার সময় পালোয়ানকে তার ‘ইউনুস’ নামের মাছ ধরার নৌকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নৌকাটিতে ইরান-নির্মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ, যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান এবং একটি ওয়ারহেড পাওয়া যায়।
মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, এগুলো ‘ইরান অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে সরবরাহ করা সবচেয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যে কয়েকটি।’
এই অভিযান পরিচালনার সময় দুই মার্কিন নেভি সিল অফিসার ক্রিস্টোফার চেম্বারস এবং নাথান গেজ ইনগ্রাম পানিতে পড়ে যান। অতিরিক্ত সরঞ্জাম বহন করার কারণে এদিন মার্কিন নেভির বিশেষ যুদ্ধ কমান্ডের উচ্চতর প্রশিক্ষিত এই দুই সামরিক অপারেটর হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের নজরদারির মধ্যেই সমুদ্রে ডুবে যান। ১০ দিন পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরে নাথান গেজ ইনগ্রাম মরণোত্তর স্পেশাল ওয়ারফেয়ার অপারেটর ১ম শ্রেণীতে উন্নীত হন। আরেকজন ক্রিস্টোফার চেম্বারস, তিনিও মরণোত্তর চিফ স্পেশাল ওয়ারফেয়ার অপারেটর পদে উন্নীত হন।
এদিকে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নৌকার আটজন কর্মী জানান, তাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। তারা জানতেন, মাছ ধরার কাজ করছেন। পালোয়ানকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কর্মীদের নিজের কাজে মনোযোগ দিতে বলেন।
অন্যদিকে পালোয়ান নিজেই জানতেন এই কার্গো কতটা বিপজ্জনক। জানুয়ারির সেই শেষ যাত্রার আগে স্ত্রীকে পাঠানো টেক্সট মেসেজে তিনি নিজেকে ‘জিন্দা লাশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
এই যাত্রার জন্য পালোয়ানকে ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি রিয়াল (প্রায় ৩৩ হাজার ২৭৪ মার্কিন ডলার) দেওয়া হয়েছিল। এটিকে প্রসিকিউটররা ‘বিপজ্জনক কাজের পারিশ্রমিক’ বা ‘ডেঞ্জার মানি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এ চোরাচালানটি ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পসের সঙ্গে যুক্ত দুই ইরানি ভাই, ইউনুস এবং শাহাব মিরকাজেই অর্থায়ন ও সমন্বয় করেছিলেন। এই দুই ভাই এখনো ইরানেই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হুথিরা গাজায় হামাসের সমর্থনে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে টার্গেট করে হামলা চালাত। হুতিদের তৎপরতার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
যুক্তরাজ্যের একটি থিংকট্যাংকের মতে, প্রাথমিক হামলার পর লোহিত সাগর দিয়ে শিপিং ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গিয়েছিল এবং সেই হার এখনো বজায় আছে। এর ফলে জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ (প্রায় ১০-১২ দিন অতিরিক্ত সময়) নিতে হচ্ছে; যার ফলে প্রতি ট্রিপে আনুমানিক অতিরিক্ত ১ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে।

