উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

কম দামে কিনতে গিয়ে গচ্চা ১২৩ কোটি টাকা

চার কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন
উত্তরা প্রতিদিন বিদেশ ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
  কম দামে কিনতে গিয়ে গচ্চা ১২৩ কোটি টাকা

কম দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার আশায় আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র (রি-টেন্ডার) ডেকে উলটো ১২৩ কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে পেট্রোবাংলা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আকস্মিক দাম বেড়ে যাওয়ায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সরকারকে এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের জন্য স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় চারটি এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তবে আবাসিক ও শিল্প গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, আমদানি করা এসব এলএনজি দেশে পৌঁছালে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বুধবার দুপুরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চার কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন হয়। এর মধ্যে ১০ সেপ্টেম্বর স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট এলএনজি ২৩ দশমিক ৯৮ ডলারে কিনছে পেট্রোবাংলা। এছাড়া স্পটে ৩টি কার্গো কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার (এই কার্গো গ্যাসের দাম পড়বে ১১৬৫ কোটি টাকা), ১-২ অক্টোবর বিপি সিঙ্গাপুর থেকে প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার (এই কার্গোর আমদানি মূল্য ১১৮৫ কোটি টাকার বেশি) এবং ৫-৬ অক্টোবর ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ২৬ দশমিক ৬৬৮ ডলারে (এই কার্গো এলএনজি আমদানি ব্যয় প্রায় ১১৩০ কোটি টাকা) কেনা হচ্ছে।

যে কারণে গচ্চা ১২৩ কোটি টাকা : জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, আগামী ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৫-৬ অক্টোবর এলএনজি সরবরাহের জন্য গত সোমবার স্পট মার্কেটে দরপত্র ডাকা হয়েছিল। ২৫-২৬ তারিখের জন্য বিপি সিঙ্গাপুর প্রতি ইউনিট ২৫.৬২ ডলার এবং ৫-৬ অক্টোবরের জন্য ভিটল এশিয়া ২৫.৫০ ডলার দর দিয়েছিল। দাম বেশি মনে হওয়ায় আরও কম দামে পাওয়ার আশায় ওই দরপত্র বাতিল করে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ। তবে মঙ্গলবার পুনরায় দরপত্র ডাকা হলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য আরামকোর কাছ থেকে ২৭.৫৪ ডলারে এবং ৫-৬ অক্টোবরের জন্য সেই ভিটল এশিয়ার কাছ থেকেই ২৬.৬৬৮ ডলারে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে শুধু এই দুই কার্গোতেই সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে এক কোটি ডলার বা প্রায় ১২৩ কোটি টাকা। এ বিষয়ে মন্তব্য নিতে বারবার চেষ্টা করেও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগ সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সোমবারের দরপত্র বাতিল করেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বাড়তে থাকে। এ কারণে দ্বিতীয়বার টেন্ডার করে কোনো লাভ হয়নি; বরং ক্ষতি হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়বে ১০ সেপ্টেম্বরের পর : এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘ব্ল্যাক কিউব’ নামের একটি কোম্পানির কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। স্পট মার্কেটে দুবার দরপত্র ডেকেও ওই সময়ের জন্য কোনো সরবরাহকারী পাওয়া যায়নি। এ কারণে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে রেশনিং করবে পেট্রোবাংলা। ১০ সেপ্টেম্বর আরামকোর এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে দৈনিক ২৩৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা ১০ সেপ্টেম্বরের পর ২৪৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে।

পেট্রোবাংলা জানায়, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর আমদানির শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে। ৬ আগস্ট টার্মিনালটি মেরামত করা হলেও গ্যাস সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আগে দেশের দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও গতকাল তা ছিল গড়ে ৭১ কোটি ঘনফুট। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের পর এটি বেড়ে দৈনিক ৯০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Read more — আন্তর্জাতিক
Home