
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই আবারও বিক্ষোভে নামেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের মধ্যেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বাইরে থেকে ‘গুন্ডা’ এনে আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এসবের পরও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, বন্ধ রাখা হয়েছে ১৬টি মেট্রো স্টেশন এবং একাধিক এফআইআরও দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে বুধবার সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো আপস হবে না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ তিনি জানান, দিনের বিভিন্ন সময়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে তার একাধিকবার কথা হয়েছে এবং তারা একমত হয়েছেন যে আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে। একই দিনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের শক্তি নিহিত রয়েছে শান্তি ও অহিংসায়। সরকারের নির্মম দমন-পীড়নের পরও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিটি সমর্থক অসাধারণ ধৈর্য, সাহস ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের নিয়ে আমি গর্বিত।’ টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার আন্দোলনস্থল থেকে অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এক মাস ধরে অবস্থান করছি। এই এক মাসে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এখন আন্দোলনটি বড় হয়ে ওঠায় বিজেপি বাইরে থেকে গুন্ডাদের এনে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে উসকে দিচ্ছে।’ দিপকে আরও অভিযোগ করেন, ‘এই পাথর ছোড়ার সঙ্গে বিজেপির লোকজন জড়িত। পুলিশ এখানে ট্রাকভর্তি পাথর এনে রাখছে। এরপর বিজেপির গুন্ডারা এসে পাথর নিক্ষেপ করছে, আর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সিজেপি সমর্থকদের ওপর।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করব না। সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে আমরা বৃথা যেতে দেব না।’ তবে অভিজিৎ দিপকের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচিকে সামনে রেখে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে পার্লামেন্ট অভিমুখে সিজেপির ২০ জুলাইয়ের মিছিল চলাকালে পুলিশের অভিযানে পেলেট গানে আহত ১৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সাহিল লোচাব তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন বলে পরিবার জানিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির নাজাফগড়ের বাসিন্দা সাহিল গত মঙ্গলবার এআইআইএমএস জয় প্রকাশ নারায়ণ অ্যাপেক্স ট্রমা সেন্টারে অস্ত্রোপচার করান। সেখানে তার শরীর থেকে পেলেট অপসারণ করা হয়। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখের মণি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ। এদিকে সোনম ওয়াংচুক বুধবার বলেছেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে না বলে যদি দ্ব্যর্থহীন আশ্বাস দেয়, তাহলে তিনি তার অনির্দিষ্টকালের অনশন প্রত্যাহার করবেন। চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। বুধবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এর মধ্যে চারটি মামলা হয়েছে সংসদ মার্গ থানায়, তিনটি কনট প্লেস থানায় এবং একটি করে মামলা হয়েছে মন্দির মার্গ, কর্তব্য পথ ও বারাখাম্বা রোড থানায়। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ এবং পার্লামেন্টে অচলাবস্থার মধ্যে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে তার এই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পালটা প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে সিজেপিও।

