
হরমুজ প্রণালিতে কন্টেইনার জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে তৃতীয় দফায় রাতভর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জেরে ট্রাম্প প্রশাসন আগের সব যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রূপ নিয়েছে।
চলতি উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ হন। মূলত এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই ওয়াশিংটন ইরানের ওপর রাতভর তৃতীয় দফায় হামলা শুরু করে।
যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দিলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট সমাধানের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো তারা খোলা রেখেছে। অন্যদিকে তেহরানও তাদের অবস্থানে অনড়। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ও উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিশ্ব নৌপথ তারা বন্ধ রাখবে।
ইরানের দাবি, বেশ কয়েকটি জাহাজ ‘অননুমোদিত রুট’ ব্যবহার করে তাদের নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বারবার আন্তর্জাতিক বার্তা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে। এরপরই সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার জেরে আর কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের নতুন নতুন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
দুই পরাশক্তির এই লাগাতার সংঘাতের ফলে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখন চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে কার্যকর অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি আকাশচুম্বী হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতে।
আগামী নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও তেলের দাম বৃদ্ধি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

