উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

নেপালের প্রধান দলগুলোর দাবি: ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনর্বহাল করতে হবে

উত্তরা প্রতিদিন বিদেশ ডেস্ক ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
নেপালের প্রধান দলগুলোর দাবি: ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনর্বহাল করতে হবে

নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওডেলকে আহ্বান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পর তিনি যে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন, সেটি পুনর্বহাল করতে হবে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল ও মাওবাদী কেন্দ্রসহ আটটি দল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক।

গতকাল শুক্রবার নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুসিলা কার্কির সুপারিশে প্রেসিডেন্ট পাওডেল প্রতিনিধি সভা ভেঙে দেন। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল সংসদ ভেঙে দেওয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর শুরু হওয়া আন্দোলনে চলতি সপ্তাহে ব্যাপক সহিংসতায় অন্তত ৫১ জন নিহত হন। এর জেরেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। অবশেষে প্রতিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সুসিলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

যদিও গত সোমবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তার আগেই বিক্ষোভ বিক্ষুব্ধ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। মঙ্গলবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে উত্তেজিত জনতা সংসদ ও সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দিলে তখনকার প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন।

আজ শনিবার আট দলের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। তারা যুক্তি দেয়, প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী এবং নেপালের বিচার বিভাগের পূর্ববর্তী রায়গুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংসদ ভেঙে দেওয়া ছিল জেনারেশন জেড (Gen Z) আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের প্রধান দাবি। তবে আট দল বলছে, প্রতিবাদকারীদের দাবি—যার মধ্যে আগামী বছরের ৫ মার্চ নতুন নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত—শুধুমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান দিয়েই সমাধান করতে হবে।

এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট পাওডেল।

৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুসিলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল শুক্রবার শপথ নেন। তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির অধিকারী কার্কিকে জেন জেড আন্দোলনের ছাত্রনেতারা সমর্থন দিচ্ছেন।

তবে তার সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে—আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভাঙচুর হওয়া সংসদ ও গুরুত্বপূর্ণ ভবন পুনর্নির্মাণ, পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নেপালের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে কি না সে আশঙ্কা দূর করা। পাশাপাশি সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করাও হবে সরকারের বড় দায়িত্ব।

দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার পর নেপাল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। প্রধানমন্ত্রী কার্কির শপথের পর রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় টহলরত সেনারা ব্যারাকে ফিরে গেছে।

এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল সরকারের সিদ্ধান্তে ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—যার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকও ছিল—নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে। তবে আন্দোলন দ্রুতই রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির প্রতি দীর্ঘদিনের অসন্তোষে পরিণত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আগের কয়েক সপ্তাহে নেপালে আলোড়ন তোলে “নেপো কিড” প্রচারাভিযান, যেখানে রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপন ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। যদিও সোমবার রাতে তড়িঘড়ি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, ততক্ষণে আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। সূত্র: বিবিসি

 

Read more — আন্তর্জাতিক
Home