
সংসদ সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে প্রবেশ বা ত্যাগ করার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে বা নিচু করে সম্মান জানানোর প্রচলিত প্রথা বা নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিষয়টি জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বললেন, ‘সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং তার আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সভাপতির প্রতি সম্মান দেখাবেন। এই বিধিটি ২০০৬ সালে সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে ত্রয়োদশ বা অষ্টম সংসদে পর্যালোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে এই ‘মাথা নোয়ানোর’ নিয়মটি কার্যপ্রণালি বিধি থেকে বাতিল করা হয়েছিল, জানালেন তিনি।
স্পিকার আরও যোগ করেন, ‘২০০৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে সংশোধিত কার্যপ্রণালি বিধির বিধি ২৬৭(১) কারণে স্পিকারের চেয়ারে মাথা নোয়ানোর বাধ্যবাধকতা আর নেই, বরং সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শন করতে পারবেন।’
জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে ঢোকার সময় ‘মাথা ঝোঁকানো’ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য (এমপি) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
মঙ্গলবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সংসদ-সদস্য বলছিলেন, তৃতীয় জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধিতে সংসদে ঢোকার পর মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার কথা বলা ছিল। এরপর এটি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে সংশোধনী আনা হয়।
তার ভাষ্য, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার বিষয়টি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এটি শিরকের কাছে চলে যায়। সেজন্য এটা বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বললেন, মাঝেমধ্যে খেয়াল করি, আপনি সুন্দরভাবে সালাম দেন। আমরাও সালাম দিই, জবাব দিই। কিন্তু পরে দেখা যায় আগের মাথা ঝোঁকানো... এখনো আছে। আপনারও আছে, ডেপুটি স্পিকারেরও আছে।

