
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল বৃহস্পতিবার কাতারে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ওই হামলার জন্য দায়ী দেশ ইসরায়েলের নাম বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। খবর এএফপির।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদ ‘‘পরিস্থিতি শান্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে’’ এবং কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিতে এই বিবৃতি গৃহীত হয়।
এতে আরও জানানো হয়, পরিষদের সদস্যরা কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত মঙ্গলবার দোহায় নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরাইল, যেখানে তারা হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করে। যদিও হামাস জানায়, তাদের শীর্ষ নেতারা অক্ষত আছেন। তবে এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন এবং কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য প্রাণ হারান।
নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে দোহাকে ‘‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূখণ্ড’’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কারণ মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরাইল-হামাস শান্তি আলোচনায় কাতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করা, নিহতদের মরদেহ ফেরত পাওয়া এবং গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক দুর্ভোগের অবসান ঘটানো।’’
জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যাওয়া কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থনমূলক বিবৃতিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, তার দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘রক্তপাত বন্ধে আমরা মানবিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। তবে সার্বভৌমত্বে কোনো আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আমাদের যে পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আছে, আমরা তা প্রয়োগ করব।’’ পাশাপাশি তিনি ইসরাইলি নেতাদের ‘‘রক্তপিপাসু চরমপন্থী’’ হিসেবে আখ্যা দেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইল পাল্টা অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক ভেটোর কারণে তা কার্যকর হয়নি।
তবে ইসরাইলের প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দোহায় চালানো হামলায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। ওই হামলায় হামাস নেতাদের একটি আবাসিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো বলেন, দোহায় এই হামলা ‘‘চরম উদ্বেগজনক উত্তেজনার সূচনা’’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তার ভাষায়, ‘‘ইসরাইলি হামলা দোহাকে এ সংঘাতের নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’’

