
ঈদের দিনে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বাবা-মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাত করেন। এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এদিন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। সেখানে ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। ভাইয়ের কবর জিয়ারতের পর বনানীর সামরিক কবরস্থানে শ্বশুর নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল প্রয়াত মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ও মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বনানী সামরিক কবরস্থানে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নিহত শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন। ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির পবিত্র ঈদুল আজহার আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে সবাইকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। ঈদের দিন সকালে বঙ্গভবনে ধারণ করা এই ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রপতি দেশবাসী এবং বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন বিভেদ নয়—ঐক্য, হিংসা নয়—সহমর্মিতা, স্বার্থপরতা নয়— ন্যায়পরায়ণতা, বৈষম্য নয়—সাম্য; ঈদুল আজহার এই মহান আদর্শ ও মূল্যবোধ হৃদয়ে ধারণ করি।’ ঈদুল আজহা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি সুদৃঢ় করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই উৎসব বিদ্বেষ, অহংকার ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক চিরন্তন ও সর্বজনীন আহ্বান। রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষ, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ও তাদের ন্যায্য হক আদায়ের জন্য সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এসময় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন। পরে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিশিষ্ট ব্যক্তি, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, বিচারপতি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি-সহ পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করেন ও মোনাজাতে শরিক হন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

